আইন-আদালত

নৌকা প্রতীক পেলেন যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন আবুল খায়ের গোলাপ নামের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক আসামি। জানা গেছে, তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতাদের টপকিয়ে কেন্দ্রীয় লবিং করে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন। এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন জাগো নিউজকে বলেন, আবুল খায়ের গোলাপের বিরুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে থেকে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে প্রথমিক তথ্য প্রমাণ পাওয়ায় উপজেলা ও জেলা আওয়ামী লীগ কমিটির পক্ষ থেকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়নি। কিন্তু তিনি তাদেরকে টপকিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে লবিং করে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রায় দুই থেকে আড়াই শতাধিক মটোরসাইকেল ও মাইক্রোবাস নিয়ে শোডাইন করে এলকায় প্রবেশ করেন। তাতে এই মামলার তদন্তে প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন সায়েদুুল হক।  আবুল খায়ের গোলাপ হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। তাই সবার মুখে মুখে এখন আলোচনা নৌকার কাণ্ডারী এখন মানবতাবিরোধী (যুদ্ধাপরাধী)।আগামী ৪ জুন ওই ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এখন এই এলাকার আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের দল থেকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়েছে।  বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন সাংবাদিকদের জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে তদন্ত সংস্থা। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা নুর হোসনকে এই মামলার তদন্তের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম জাগো নিউজকে জানান, এই মামলা পরিচালনার জন্য প্রসিকিউশন টিমের সদস্য জেয়াদ আল মালুম, জাহিদ ইমাম, রেজিয়া সুলতানা চমন ও তাপসকান্তি বল রয়েছেন।তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের নবীগঞ্জ এলকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন আসামি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়েছে কি না সেটা আমাদের জানার বিষয় না। সেটা আওয়ামী লীগের জানার বিষয়। এদিকে আবুল খায়েরের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, স্বাধীনতার পর থেকেই তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আছেন। তার আপন চাচাতো ভাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ নেয়াজের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধের জের ধরে ওই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে আবুল খায়ের গোলাপের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এফএইচ/এসকেডি/এবিএস