দেশজুড়ে

জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে নওগাঁ শিশু পরিবার

নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে নওগাঁ সরকারি বালিকা শিশু পরিবার। প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এর কার্যক্রম। এ ব্যাপারে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানালেও সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।জানা গেছে, ২০০৩ সালে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জেলা কারাগারের কাছে সরকারি অর্থায়নে নওগাঁ সরকারি বালিকা শিশু পরিবার নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকেই চিকিৎসা, খাওয়া দাওয়া, বিনোদনসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত শিশু পরিবারটি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে শিশু পরিবারে ১০০ শিশু রয়েছে। পরিবারে পদের সংখ্যা ১২ জন। এর বিপরীতে আছেন মাত্র ৭ জন কর্মকর্তা। এছাড়াও আরো ৭ জন শিশু পরিবারকে দেখভালের জন্যে রয়েছেন। এই ৭ জনের মধ্যে উন্নয়ন খাতে ৪ জন এবং অস্থায়ী আছেন ৩ জন। সব মিলিয়ে এদের দেখভালের জন্য ১৯ জন লোক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ১০ জন। শিশু পরিবারের প্রধান গেটে `বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ` লেখা আছে। কিন্তু নেই কোনো নিরাপত্তারক্ষী। দিনের বেলা সহজেই যে কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে। তবে রাতে একজন নৈশ প্রহরী থাকেন বলে জানা যায়। শিশু পরিবার অফিস সূত্রে জানা যায়, সার্বক্ষণিক দারোয়ানের পদও শূন্য রয়েছে। উপ-তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারি তত্ত্বাবধায়ক ২০১৩ সালের মার্চ মাসে বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়াও মেট্রন কাম নার্স, কম্পাউন্ডার পোস্ট থাকলেও নিয়োগ নেই। পরিবারে চতুর্থ শ্রেণির পাঁচটি পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র দুইজন।এদিকে, কারিগরি প্রশিক্ষকের মোট দুইটি পদের দু`জনই প্রেষণে অন্য জায়গায় কর্মরত আছেন। ফলে এখানে কর্মমূখী শিক্ষার কোনো সুযোগই নেই। অথচ শিশু পরিবার কর্মসূচির অন্যতম নীতি হল মূলধারার শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মমূখী শিক্ষার মাধ্যমে অনাথ শিশুদের স্বনির্ভর করে তোলা। শিক্ষক না থাকায় শিশু পরিবারের পাঁচটি কম্পিউটারই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে।শিশু পরিবারের সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম জানান, ওদের পড়ানোর ফাঁকে সময় পেলে কম্পিউটার শেখাতেন তিনি। কিন্তু গত দুই বছর থেকে নষ্ট হওয়ায় সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না।চিকিৎসার ক্ষেত্রেও এই পরিবারের বাসিন্দারা অবহেলিত হচ্ছে দিনের পর দিন। খণ্ডকালীন একজন চিকিৎসক থাকলেও সেটা পর্যাপ্ত নয় বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। নেই কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা। এতো অবহেলা পরও শিশু পরিবারের শিশুদের এসব বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে প্রতি শিশুর খরচ বাবদ ২৬০০ টাকা দেয়া হয়। এই টাকা খাবার, প্রাইভেট, চিকিৎসা, কাপড়, তেল, সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে খরচ করা হয়ে থাকে। এতো সমস্যার মাঝেও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমাসহ অন্যান্যরা জানায়, তারা বেশ ভালো আছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থী তানজিলা জান্নাত জানায়, এখানে মূলধারার শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষাও দেয়া হয়ে থাকে। সে আরও জানায়, বছরে দুইবার পোশাক দেয়া হয়। খাবারের মধ্যে দেয়া হয় ভাত, খিঁচুড়ি, মাছ, ডিম, মাংশ, সবজিসহ ভাল মানের অন্যান্য খাবারও।অফিস সহকারী আকবর আলী জানান, রোগ-বালাই সম্পর্কে কিছু না জেনেও অফিসের পাশাপাশি কম্পাউন্ডারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই কাজটা ঠিকমতো হয় না। শিশু পরিবারের সহকারী শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত সহকারী তত্ত্বাবধায়ক শহিদুল ইসলাম জানান, একজনের দায়িত্ব আরেকজনকে পালন করতে হচ্ছে বলে কোনো কাজই ঠিকমতো করা সম্ভব হয়ে উঠে না। জেলা সমাজসেবা অফিসার ও শিশু পরিবারের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুল আলম জানান, লোকবলের সংকট থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, লোকবল সংকটের বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে বার বার জানানো হয়েছে। তবে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, শিশু পরিবারের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।আব্বাস আলী/এসএস/এমএস