যশোরের শার্শায় ৪ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউপি নির্বাচনে ১০টি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের দীর্ঘ দিনের দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের। যেখানেই নৌকা প্রার্থী সেখানেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। আর এ সুযোগে বিএনপির একক প্রার্থী থাকায় তারা নীরবে প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে না পারলে কয়েকটি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবির আশঙ্কা করছে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। শার্শার ১০টি ইউনিয়নের প্রার্থীদের মধ্যে দু’গ্রুপের ৫ জন করে মোট ১০ জন প্রার্থীর নৌকা প্রতীক চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করেছেন। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর থেকেই খোদ আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আওয়ামী লীগে দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে বাগআঁচড়া ও শার্শা সদর ইউনিয়ন ব্যতীত অন্যান্য ৮টি ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। ডিহি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মেয়র গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম ফজলুল হক বকুল। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমপি গ্রুপের ৪ জন। তারা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল খালেক, সহ-সভাপতি হোসেন আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতা সাহিদুর রহমান। লক্ষণপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মেয়র গ্রুপের সালাহ উদ্দিন শান্তি। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমপি গ্রুপের ৫ জন। তারা হলেন- ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ভূইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা আত্তারুজ্জামান, গোলাম মোস্তফা, শামছুর রহমান। বাহাদুরপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মেয়র গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমপি গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী। পুটখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন মেয়র গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল গফফার সরদার। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমপি গ্রুপের আওয়ামী লীগ নেতা হাদিউজ্জামান। গোগা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এমপি গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আসমা সুলতানা। কায়বা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এমপি গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আপন দুই সহোদর মেয়র গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বাবলু ও আলতাফ হোসেন। বাগআঁচড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এমপি গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইলিয়াস কবীর বকুল। এখানে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।উলাশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান এমপি গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আয়নাল হক। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন মেয়র গ্রুপের পিতাপুত্র সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আলম ও পুত্র সাইদুজ্জামান বিটন।শার্শা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন এমপি গ্রুপের উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন। এখানে আওয়ামী লীগের কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী নেই।নিজামপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন মেয়র গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সেলিম রেজা বিপুল। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমপি গ্রুপের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দিন ও মহসীন আলী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান বলেন, নির্বাচন থেকে সরে আসার জন্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চলছে। এরপরও বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। জামাল হোসেন/এসএস/এমএস