দেশজুড়ে

আগে জান বাঁচাই বাপো, পরে ভোট লিয়া ভাবমুনে

শনিবার দিনভর কাহালুর চারটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে অবাক করা চিত্র। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই ছিল ফাঁকা। তারপরেও প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের পরিমাণ অনেক বেশি। কাহালু সদর ইউনিয়নের বুড়ইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল ধানের শীষের কোনো এজেন্ট নেই। ফাঁকা কেন্দ্রে চেয়ারে বসে খোশ গল্পে মত্ত পুলিশ সদস্যরা। আনসার সদস্যরাও সজাগ নয়।কেন্দ্রের মাঠে এলাকার ২/৩ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলে, ভোটের আগের রাতে নৌকার প্রার্থীর লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিয়ে এসেছে যাতে কোনো ভুল না হয়। হয় নৌকায় ভোট, নয়তো বাড়িতে হামলা। এমন হুমকির কারণেই ভোট কেন্দ্রে লোক নেই। আব্দুল কাদের, মোখলেছার রহমান ও মনির হোসেন জানালেন ভোট দিয়ে শত্রুতা তৈরি করার চেয়ে বাড়িতে বসে থাকা ভালো। মুরইল ইউনিয়নের শীতলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল ১৮২২ ভোটারের মধ্যে দেড় ঘণ্টায় গ্রহণ হয়েছে মাত্র ১০ ভাগ। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম সবুজ বলেন, কেন জানি ভোটাররা আসছে না। সেখানে চারটি বুথে গড়ে ১০ ভাগ করে ভোট গ্রহণ হয়েছে। অবাক করা দৃশ্যের দেখা মিলে কালাই ইউনিয়নের পিলকুঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে। বাইরে একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, একজন এএসপি, একজন ওসির নেতৃত্বে বিশাল ভ্রাম্যমাণ টিম। ভেতরে কেন্দ্র ফাঁকা। এখানে নৌকার প্রার্থী শামিম খন্দকার বগুড়া শহর আওয়ামী লীগ নেতা শেখ শামিমকে নিয়ে কেন্দ্র তদারকি করছেন। ভোটারদের অভয় দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ভীত সন্ত্রস্ত ভোটাররা তারপরেও ভোটকেন্দ্র মুখি হচ্ছে না। তবে পিলকুঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মোমিনুল হক জানালেন, সেখানে ভোটার সংখ্যা ১৩২২ জন।বেলা ১২টা ২০ মিনিটে ৮০ ভাগ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন তিনি। এখানে মোজাহার আলী, আব্দুল গফুরসহ আরো অন্তত ১০ জন ভোটার জানালেন তাদের আশঙ্কার কথা। তারা বলেন, আগে জান বাঁচাই বাপো, পরে ভোট লিয়া ভাবমুনে।এআরএ/এমএস