দেশজুড়ে

এমপি-মেয়র দ্বন্দ্বে সংঘর্ষের আশঙ্কা

আগামী ৪ জুন শেষ ধাপের নির্বাচনে যশোরের শার্শা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের দু‘পক্ষের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে থাকায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী এলাকা। এতে ভোটাররাও পড়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে। ইতোমধ্যে গোগা, কায়বা, বাগআঁচড়া, পুটখালি, বাহাদুরপুর, ডিহি ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর প্রতীক নৌকা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে নির্বাচনী ক্যাম্প, প্রচার মাইক। মারধর করা হয়েছে নৌকার সমর্থকদের। আর এসব ঘটনা ঘটরছ ক্ষমতাসীন দলের দু‘গ্রুপের মধ্যে। ইতোমধ্যে পুটখালি ইউনিয়নের বিএনপি প্রার্থী মফিজুর রহমান অব্যাহত হুমকির মুখে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। দলীয় নির্দেশনা না মেনে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় শার্শায় ৮ চেয়ারম্যান প্রার্থীকে বহিষ্কার করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। একই সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের সমর্থন করায় দলের দুই নেতার বিরুদ্ধেও একই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শার্শার ১০টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোল পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটনের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের। যেখানেই নৌকা প্রার্থী সেখানেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। আর এ সুযোগে বিএনপির একক প্রার্থী থাকায় তারা নীরবে প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষের ভোট নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী সামাল দিতে না পারলে কয়েকটি ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের ভরাডুবির আশঙ্কা করছে ক্ষমতাসীন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি দলের মধ্যে বিভক্ত শুরু হয়ে গেছে। ১০টি ইউপির মধ্যে ৫টিতে এমপি ও ৫টিতে মেয়র গ্রুপের সমর্থক প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন। এর মধ্যে গোগা, বাগআঁচড়া ও শার্শা  ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে রয়েছেন বিএনপির একমাত্র প্রার্থী। কিন্তু ডিহি, লক্ষণপুর, বাহাদুরপুর, পুটখালি, কায়বা, উলাশি ও নিজামপুর ইউনিয়নে ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের লড়াই করতে হবে নিজ দলের শক্তিশালী বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীদের সঙ্গে। এর ফলে তাদের জয়ী হওয়াটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন এলাকার ভোটাররা।  আগামী ৪ জুন শার্শা উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনে ১০৬টি ভোটকেন্দ্রে ২ লাখ ১৪ হাজার ৮০৬ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭ হাজার ১০৯ জন ও নারী ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৯৭ জন। শেষ ধাপের এ নির্বাচনে ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯ জন, ইসলামী আন্দোলনের পাখা মার্কার ৩ জন এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ৩২৩ জন, সংরক্ষিত নারী আসনে ৭৭ জন প্রার্থী আছেন। ইতোমধ্যে উপজেলা রিটানিং অফিসার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সদস্য পদে ৮ জন ও সংরক্ষিত নারী আসনে ৭ জনকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন। জামাল হোসেন/এসএস/পিআর