যশোরের শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের দাতখালি গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ সময় ৩০ থেকে ৩৫টি বাড়ি ভাঙচুর এবং অর্ধশতাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ভয়ে গোটা গ্রাম পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। এলাকার লোকজন জানান, শনিবারের নির্বাচনের পর রাত ১১টার দিকে আওয়ামীগের নৌকা সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর ও হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় দাতখালি গ্রামের মিজানের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৩০) ও একই গ্রামের কাশেমের ছেলে কালু (৩৫) আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। দাতখালি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জাহানারা বেগম জানান, আমরা নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে কেন মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট দিয়েছি এ কারণে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা ভোটের দিন রাত ১১ টর সময় আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা করে। তারা ফাঁকা বোমা বর্ষণ করে আতঙ্ক ছড়ায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে জীবনের ভয়ে পুরুষরা ঘর ছেড়ে পালিয়েছে।সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা গেছে, গ্রামের মানুষের অধিকাংশ টালির ঘর এবং বাড়ির কিছু আসবাবপত্র এবং বাথরুম ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।এলাকার কিছু লোক অভিযোগ করে বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু লোক এলাকা পরিদর্শনে আসলে দুর্বৃত্তরা কিছু সময় ভাঙচুর কার্যক্রম বন্ধ রাখে। তারা চলে গেলে আবার শুরু করে।বর্তমান নির্বাচিত কায়বার নারী মেম্বার কমলা বেগম জানান, তার বাড়ি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে টাইলস ও তালা ভেঙে ফেলে নৌকার লোকজন। তিনি জানান, ভয়ে বাড়ি থাকতে পারছি না। মামলা করব কিভাবে?এলাকার অন্য একটি সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের হাসান ফিরোজ টিঙ্কু এবং একই দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী আলতাফের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব শত্রুতা চলে আসছে। আর তারাই জের ধরে দুজনই নির্বাচন করেন। আলতাফ হোসেন হেরে যাওয়ার পর টিঙ্কু সমর্থকরা ফুসে উঠে। নির্বাচনের আগে দফায় দফায় টিঙ্কু সমর্থকদের উপর হামলা চালায় আলতাফের লোকজন। এমনকি ভোটের দিন টিঙ্কুর প্রাইভেটকারও ভাঙচুর করা হয়। এ ব্যাপারে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ টিঙ্কুর কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়ে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। পরবর্তীতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে আমি দেখব।পরাজিত বিদ্রোহী প্রার্থী আলতাফ হোসেন জানান, নির্বাচনে জয় লাভের পর থেকে এলাকায় তার সমর্থকদের উপর তাণ্ডব চালাচ্ছে নৌকার লোকেরা। এ ব্যাপারে শার্শার বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিব জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আর যাতে কোনো প্রকার সহিংস ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে এলাকায় দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। জামাল হোসেন/এসএস/পিআর