যশোরের শার্শা উপজেলায় ৬ষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১০টি ইউনিয়নে বিএনপির ভরাডুবি হয়েছে। ১০টি ইউনিয়নে মধ্যে ৭টিতে আওয়ামী লীগ ও ৩টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও এবং ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার পরও একটি ইউনিয়নেও জয়ী হতে পারিনি বিএনপি। অনেকের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ১নং ডিহি ইউনিয়নে বিএপির মো. আব্দুল মান্নান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হোসেন আলীর কাছে বিপুল ভোটে হেরে যান। এখানে হোসেন আলী পান ৬১০৭ ভোট, আর আব্দুল মান্নান পান মাত্র ১৩৬৯ ভোট। আর আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী পান ২৮৮৫ ভোট।২ নং লক্ষণপুর ইউনিয়নে বিএনপির আহসান হাবিব খোকন আওয়ামী লীগের সালাহউদ্দিন শান্তির কাছে ৩০০০ ভোটে হেরে গেছেন। ৩ নং বাহাদুরপু ইউনিয়নে বিএনপির সেলিম শাহী নির্বাচনের আগেই মাঠ ছাড়েন। এখানে মাত্র ৮৩০টি ভোট পড়ে বিএনপির বাক্সে। এখানে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী মিজানুর রহমান জয়লাভ করেন ৬০৯৬ ভোট পেয়ে।প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মফিজুরের সঙ্গে। মফিজুর পান ৫৭৩৭ ভোট। ৫ নং পুটখালী ইউনিয়নে বিএনপির মফিজুর রহমানকে প্রার্থী দেওয়া হলেও ক্ষমতাসীন দলের নৌকা প্রার্থীর চাঁদাবাজির হুমকিতে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। ৬ নং গোগা ইউনিয়নে বিএনপির সরোয়ার হোসেন বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের আব্দুর রশিদের কাছে পরাজিত হয়েছে। নৌকার প্রার্থী ৯৩৭১ ভোট পেলেও বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ২২৯০ ভোট। এখানে বিএনপি জামায়াতের ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দেয়নি আওয়ামী লীগ কর্মীরা। এছাড়া ৭ নং কায়বা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মো. রুহুল কুদ্দুস আওয়ামী লীগের হাসান ফিরোজ টিংকুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেনি। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর সঙ্গে। নৌকার প্রার্থী ভোট পান ৭৭৮৫। আর আ.লীগ বিদ্রোহী পান ৬০৩৯ ভোট। এখানে বিএনপির প্রার্থী পান ২২৫৭ ভোট। ৮ নং বাগআঁচড়া ইউনিয়নে বিএনপির জাহাঙ্গীর আলম ১২ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগের ইলিয়াস কবির বকুলের কাছে। ৯ নং উলাশী ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী আয়নাল হকের কাছে পরাজিত হন ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে। আয়নাল হক পান ১২২২৮ ভোট আর মনিরুল পান মাত্র ১০৯০ ভোট এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীর সঙ্গে। তিনি পান ৪১৮৪ ভোট। ১০নং শার্শা ইউনিয়নে বিএনপির সালাউদ্দিন আওয়ামী লীগের সোহারাব হোসেনের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হন। নৌকার প্রার্থী ১৫৩৫৯ ভোট পেলেও বিএনপির প্রার্থী পান মাত্র ২৫০৮ ভোট। ১১ নং নিজামপুর ইউনিয়নে বিএনপির আব্দুর রউফ মন্টূ আওয়ামীলগের বিদ্রোহী আবুল কালাম আজাদের কাছে পরাজিত হন। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থীর সঙ্গে। এদিকে যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যর্থতা এবং নেতাকর্মীদের অনৈক্যকে বিএনপির ভরাডুবির জন্য দায়ী করেছেন সাধারণ মানুষ। বিএনপির একটি মহল গোপনে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে সমঝোতার কারণে অনেক বিএনপি প্রার্থী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, দলের নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব, কর্মীদের মাঝে অনৈক্য, যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যর্থতা এবং প্রার্থী দেয়ার পর নেতাকর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে মাঠে না থাকায় এমন ভরাডুবি হয়েছে। দল থেকে শুধু একজনকে প্রার্থী দিয়ে মাঠে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ যেভাবে মনিটরিং করেছে বিএনপি তেমনটি করেনি। এসব কারণেই মূলত এমন ফলাফল হয়েছে।এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার এক বিএনপি নেতা জানান, সন্ত্রাস কবলিত শার্শায় নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছি এটাই বড় বিষয়। জীবনের ভয়ে অনেকে ভোট চাওয়া দূরে থাক, পোস্টারও লাগাতে পারেননি।ভোটের আগের থেকে বিএনপি সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীরা মাঠে ছিল। যেখানে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে ভোট নিয়ে গোলমাল চলছে সেখানে বিএনপি প্রার্থীর নীরব দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কি করার আছে।জামাল হোসেন/এফএ/এবিএস