যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ঐতিহ্যবাহী বটতলার বটগাছটি কেটে নিয়েছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে চুপিসারে এ গাছটি কেটে নেয়া হয়। ঘটা করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপনের মাত্র তিনদিন পর ঐতিহ্যবাহী গাছটি কেটে নেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশবাদীরা। তাদের দাবি, পুলিশ আইন লঙ্ঘন করে একটি ঐতিহ্যকে হত্যা করেছে। স্থানীয়রা জানান, যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা থেকে ঘোপ এলাকার প্রবেশ মুখের নামটিই ‘বটতলা’। স্বাধীনতার আগে থেকেই এখানে সুবিশাল দুইটি বটবৃক্ষ ছিল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক আর্মি এই গাছ কেটে ফেলে। যুদ্ধ জয়ের পর এখানে আবারো বটগাছ লাগানো হয়। সেই ঐতিহ্যবাহী বটগাছটি রাতের আঁধারে কেটে ফেলছে পুলিশ। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম বটগাছটি কেটে ফেলায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, পুলিশ একটি ঐতিহ্যকে হত্যা করেছে। এই গাছটির সঙ্গে ঘোপবাস, যশোরবাসীর আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। একাত্তরে পাক আর্মি এই গাছ কেটে ফেলেছিল। স্বাধীনতার এতো বছর পরে এসে সেই বটতলার গাছ কাটলো পুলিশ। তিনি আরো উল্লেখ করেন, গাছের মালিক যেই হোক, বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া আইন লঙ্ঘন করে এভাবে কেউ গাছ কাটতে পারে না। যশোরের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীণ ওয়ার্ল্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশিক মাহমুদ সবুজ বলেন, মানুষের ছায়া দানকারী ও পাখিদের আবাসস্থল এই গাছটি কেটে নেয়া অনভিপ্রেত। যারা যে কারণেই কাটুক না কেন এভাবে গাছ কাটা সমর্থনযোগ্য নয়। আরো বেশি বনায়ন করে এ ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে সেদিকেও তিনি দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে যশোর পৌরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের (৪নং) কাউন্সিলর মোকসীমুল বারী অপু জানান, গাছটি যারা কেটেছে তারা খুবই খারাপ কাজ করেছে। ওই স্থানে যখন মার্কেট করা হয়, তখন গাছটি বাঁচিয়ে করা হয়েছে। সে সময় কাটলো না, তাই এখন এই গাছ কাটার কোনো যুক্তি নেই। যারা গাছ কেটেছে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক গাছ কাটার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। তাহলে পুলিশের জমির সীমানার এ গাছ কারা কাটলো- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বিষয়টি খোঁজ নেবেন বলে জানান। এ সম্পর্কে জানার জন্য যশোরের পুলিশ সুপারকে ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মিলন রহমান/এআরএ/আরআইপি