আইন-আদালত

কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ কাল

সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনের হাইকোর্টে জামিন চেয়ে করা আবেদন শুনানি শেষ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদেশে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত বিষয়ে সুলতানা পারভীনের আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি ইউসুফ আবদুল্লাহ সুমনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আদেশের জন্য এ দিন রেখেছেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি। সাংবাদিকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইশরাত হাসান। মঙ্গলবার আদেশ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুলতানা পারভীনের আইনজীবী ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ।

আইনজীবী ইশরাত হাসান জাগো নিউজকে বলেন, কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগের মামলায় কারাগারে থাকা কুড়িগ্রামের তৎকালীন ডিসি সুলতানা পারভীনের জামিনের বিষয়ে মঙ্গলবার আদেশের দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফয়জুল্লাহ ফয়েজ প্রমুখ। অন্যদিকে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি।

গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করলে বিচারক মোছাম্মৎ ইসমত আরা বেগম তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর সুলতানা পারভীন হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। ২০২০ সালের ১৩ মার্চ রাতে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের বাসায় অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

প্রশাসনের একটি পুকুরের নামকরণ ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে নির্যাতন, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার হুমকি ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে আরিফুলের বিরুদ্ধে আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে তাৎক্ষণিক এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ছাড়াও তৎকালীন আরডিসি নাজিম উদ্দিন, এনডিসি রাহাতুল ইসলাম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। পরে আরিফুল ইসলামকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তি পাওয়ার পর সাংবাদিক আরিফুল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন।

এফএইচ/এমএএইচ/