আইন-আদালত

আরও দুইজনের সাক্ষ্যের পর হাসিনার মামলায় যুক্তিতর্ক

জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও দুইজন জবানবন্দি দিতে পারেন। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার সাক্ষ্য দেবেন। সেটা আগামীকাল বা তার পরও হতে পারে। এরপরই মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হবে।

মূলত তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলায় আর দুই-একজনের সাক্ষ্য নেওয়ার পর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন তথ্য জানান তিনি।

এদিন এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়া শুরু করেন আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। জবানবন্দি অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম মঙ্গলবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ মামলায় মোট ৪৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেছেনট্রাইব্যুনাল।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, আশা করা যাচ্ছে মাহমুদুর রহমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর আর দুই-একজনের সাক্ষ্য প্রদানের মাধ্যমে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হবে। সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হলে বিচারের যে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আছে, সেই প্রক্রিয়ায় বিচারটি সমাপ্তির দিকে ধাবিত হবে।

তাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট এভিডেন্স (তথ্যপ্রমাণ) এই আদালতে হাজির করতে সক্ষম হয়েছেন। সুতরাং আর সাক্ষ্য তেমন বেশি প্রয়োজন নেই। সে কারণে বাকি দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর মামলাটি সমাপ্তির জন্য প্রেয়ার (আবেদন) করা হবে।

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনা বিরোধীপক্ষকে হিটলারের মতো দমন করতেন বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিতে খালেদা জিয়াকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ

তিনি বলেন, যেহেতু এখানে ডিফেন্সের (আসামিপক্ষ) পক্ষ থেকে সাক্ষ্য দেওয়ার ব্যাপার নেই, আসামি দুজন পলাতক। আর চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এ মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন। সে কারণে হয়তো মামলাটি যুক্তিতর্কের জন্য নির্ধারিত হতে পারে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেলে তিনি তার জবানবন্দি দিচ্ছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে আছেন। আর অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত বছরের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। গত ১০ জুলাই দায় স্বীকার করে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বলেন, জুলাই-আগস্টে আন্দোলন চলাকালে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা সংঘটনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য। এ ঘটনায় আমি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করছি। আমি রাজসাক্ষী হয়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার বিস্তারিত আদালতে তুলে ধরতে চাই। রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চাই।

একই দিন এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

এ মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র ২ হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি ৪ হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ ২ হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার রয়েছে। সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন ৮১ জন।

এফএইচ/এএমএ/এমএস