সংঘাতের মধ্যেই ইউক্রেনে বৈরী আবহাওয়ায় কমপক্ষে ৯ জন নিহত হয়েছে। দেশটির জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, দক্ষিণ ইউক্রেনীয় শহর ওডেসায় তীব্র বৃষ্টিপাত এবং বন্যায় এক শিশুসহ কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
বুধবার ইউক্রেনের রাজ্য জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ৩৬২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার আবহাওয়া আরও খারাপ থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন শহরের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, বুধবার সকালে রাশিয়ার আক্রমণের একজনের মৃত্যু হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব ইউক্রেনীয় শহর খারকিভের পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়ার আক্রমণে এক পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন লেগেছে।
খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিহুবভ বলেছেন, ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা গেছে যে অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা বাজারের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে ইউক্রেনকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইউক্রেনের অনুরোধে দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
কিয়েভ দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমা মিত্রদের কাছে এমন অস্ত্র চাইছে যা রুশ সীমান্তের বহু ভেতরে আঘাত হানতে সক্ষম। ইউক্রেনের দাবি, এতে রাশিয়ার সামরিক শক্তি দুর্বল হবে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার পথ খুলবে। ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইভান হাভরিলিউক বিবিসিকে বলেন, যদি মস্কোর কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, তবে তারা শান্তি আলোচনায় বসতে বাধ্য হবে।
তবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বিষয়টিকে গুরুত্বহীন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, টমাহক বা অন্য ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভ সরকারের জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি বদলাতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত কিথ কেলগ টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ট্রাম্প এরই মধ্যে ইউক্রেনকে রাশিয়ার ভেতরে গভীর আঘাত হানার অনুমতি দিয়েছেন। কেলগ বলেন, গভীরে আঘাত করার সুযোগ ব্যবহার করতে হবে।
টিটিএন