প্রশ্ন: আপন ভাগনির মেয়েকে বিয়ে করা যাবে? কেউ যদি বিয়ে জায়েজ মনে করে ভাগনির মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে তাহলে করণীয় কী?
উত্তর: নিজের আপন ভাগনি অর্থাৎ আপন বোনের মেয়েকে যেমন বিয়ে করা নিষিদ্ধ, আপন ভাগনির মেয়েকেও বিয়ে করা নিষিদ্ধ। ইসলামে মাহরাম নারীদের বিয়ে করলেও বিয়ে হয় না। না জেনে কেউ যদি আপন ভাগনির মেয়েকে বিয়ে করে ফেলে, তাহলে হারাম জানার সঙ্গে সঙ্গে আলাদা হয়ে যেতে হবে এবং এই ভুলের জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে।
কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, মুমিন নারীদের বলো, যেন তারা তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত করে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীরা, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারও কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা নুর: ৩০, ৩১)
এ আয়াতে যাদেরকে পর্দার বিধানের বাইরে রাখা হয়েছে অর্থাৎ যাদের সাথে দেখা দেওয়া জায়েজ বলা হয়েছে, তারাই মাহরাম, তাদের সঙ্গে বিয়ে নিষিদ্ধ। এ আয়াতের বর্ণনা অনুযায়ী নারী-পুরুষদের জন্য ১৪ ব্যক্তি মাহরাম। এখানে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হল:
পুরুষের জন্য যারা মাহরাম
১. মা
২. ফুফু (বাবার বোন)
৩. খালা (মায়ের বোন)
৪. শাশুড়ি (স্ত্রী এর মা )
৫. দুধ-মা (যে মা ছোট বেলায় দুধ খাইয়ে ছিলেন)
৬. নিজের বোন
৭. নানি (মায়ের মা)
৮. দাদি (বাবার মা)
৯. নাতনি (আপন ছেলে ও মেয়ের কন্যা)
১০. দুধ-বোন
১১. মেয়ে
১২. ভাতিজি (আপন ভাই-এর মেয়ে)
১৩. ভাগনি (আপন বোনের মেয়ে)
১৪. ছেলের স্ত্রী
নারীদের জন্য যারা মাহরাম
১. বাবা
২. চাচা
৩. মামা
৪. শ্বশুর
৫. সহোদর ভাই
৬. দাদা
৭. নানা
৮. নাতি
৯. দুধ-ভাই
১০. ছেলে
১১. ভাইয়ের ছেলে
১২. বোনের ছেলে
১৩. মেয়ের স্বামী
১৪. দুধ-ছেলে
ওএফএফ/এমএস