আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস কাদের চৌধুরীর সম্পদ ও দায়ের তথ্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোষিত সম্পদের তুলনায় তার ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ গুণ বেশি, যা প্রার্থীর আর্থিক কাঠামোকে স্পষ্টভাবে ঋণনির্ভর করে তুলেছে।
সম্পদ ও ঋণের বিশাল ব্যবধান
হলফনামা অনুযায়ী, গিয়াস কাদের চৌধুরীর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ কোটি ৭৯ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭ টাকা। এর বিপরীতে তার নামে থাকা মোট ঋণের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৬৭৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ ঘোষিত সম্পদের তুলনায় ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৬ গুণ বেশি। এই ব্যবধান থেকেই তার আর্থিক অবস্থার দিকটি স্পষ্ট হয়।
আয়ের উৎস ও কর পরিশোধ
হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, গিয়াস কাদের চৌধুরী বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই খাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩১ লাখ টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা। আয়ের তুলনায় কর পরিশোধের অঙ্ক তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও তা তার ঘোষিত বার্ষিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অস্থাবর সম্পদের কাঠামো
অস্থাবর সম্পদের তালিকায় সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে শেয়ার ও বন্ডে বিনিয়োগ। এসব বিনিয়োগের ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ২১৪ টাকা, যার বর্তমান বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৪৫ লাখ ৩৫ হাজার ৩২০ টাকা। এটি তার মোট সম্পদের একটি বড় অংশ।
এছাড়া, তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৩২ হাজার ১৫৪ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ৫ লাখ টাকা। হলফনামায় একটি আগ্নেয়াস্ত্রের কথাও উল্লেখ রয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
স্থাবর সম্পদ: জমিতে বিনিয়োগ সীমিত
স্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে গিয়াস কাদের চৌধুরীর কৃষিজমির মূল্য মাত্র ৯ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। তবে অকৃষি জমির ক্রয়মূল্য ১ কোটি ১২ লাখ ৫০৯ টাকা হলেও এর বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৪৮ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬ টাকা। স্থাবর সম্পদের মোট অংশ তাঁর ঘোষিত সম্পদের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।
ব্যাংকঋণের হিসাব
হলফনামায় উঠে আসা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা বিপুল পরিমাণ ঋণ। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সূত্রেই এই ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।হলফনামা অনুযায়ী:
অগ্রণী ব্যাংকে ঋণ: ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ টাকাডাচ-বাংলা ব্যাংকে ঋণ: ১৬৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকাসোনালী ব্যাংকে ঋণ: ২০১ কোটি ৬৬ লাখ টাকাঢাকা ব্যাংকে ঋণ: ৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকাপিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে ঋণ: ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকাসব মিলিয়ে তার নামে থাকা ঋণের মোট অঙ্ক ৬৭৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
নির্বাচনি বিধান অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সম্পদ, আয় ও দায়ের বিস্তারিত বিবরণ হলফনামার মাধ্যমে প্রকাশ করতে হয়।
গিয়াস কাদের চৌধুরীর ক্ষেত্রে হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি শেয়ার ও বন্ডভিত্তিক বিনিয়োগে বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হলেও ব্যাংকঋণের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি।
এমআরএএইচ/এএমএ/এমএস