আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ভাড়া বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ওয়াসিমের খোঁজ মিলেছে এক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে। গত শনিবার (৪ জানুয়ারি) ওয়াসিমের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে রাজধানীর কদমতলী থানায় অভিযোগ করেন তার স্ত্রী শারমিন আক্তার টুম্পা। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ৫-৬ জন ব্যক্তি ওয়াসিমকে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
তালেবুর রহমান বলেন, গত শনিবার শারমিন আক্তার টুম্পা নামের এক নারী রাজধানীর কদমতলী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তাতে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্বামী মো. ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে (৪০) ওইদিন ভোর ৫টার দিকে রাজধানীর কদমতলী থানার রাজাবাড়ী আলী বহর এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি নিয়ে গেছেন।
আরও পড়ুনতারেক রহমান আগামীদিনের গণতন্ত্রের টর্চবেয়ারার: আমীর খসরুগাছে পেরেক ঠুকলে ২০ হাজার টাকা জরিমানা
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই কদমতলী থানা পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে এবং ভিকটিমকে উদ্ধারে তার বাবা-মা, ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু তারা কোনো বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিতে পারেননি।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কদমতলী থানা পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার কদমতলী থানার মেরাজনগর এলাকার এক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে নিখোঁজ মো. ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে উদ্ধার করে।
কদমতলী থানার বরাত দিয়ে তালেবুর রহমান বলেন, নিখোঁজ ওয়াসিম ও তার স্ত্রী পরিবার থেকে আলাদা ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওয়াসিমের মাদকাসক্তের কারণে পরিবারের সম্মতিক্রমে ছোট ভাই রাকিব তার স্ত্রীকে না জানিয়েই ঘটনার দিন তাকে স্থানীয় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ভোরে মাদকাসক্তদের নিরাময় কেন্দ্রে আনা সহজ হয় বিধায় তারা এই সময়টি বেছে নেন। তবে এক্ষেত্রে নিখোঁজ মো. ওয়াসিম আহমেদ মুকছানকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে আনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারের পর ওয়াসিমকে তার স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপস্থিতিতে স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান তিনি।
কেআর/কেএসআর/এএসএম