অর্থনীতি

প্রয়োজন থেকে শখ, তরুণদের পছন্দের শীর্ষে দামি মোটরসাইকেল

গণপরিবহনের নাজুক অবস্থা ও যানজট এড়িয়ে স্বস্তিতে যাতায়াতের জন্য দেশে দিন দিন বাড়ছে মোটরসাইকেলের জনপ্রিয়তা। তুলনামূলক কম দাম এবং জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয়ী হওয়ায় দুই চাকার এই বাহনটি এখন অনেকের সঙ্গী হয়ে উঠছে। এছাড়া রাইড-শেয়ারিং সেবা ঘিরে এটি কারও কারও কর্মসংস্থানের উৎসেও পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল নিয়ে জাগো নিউজের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এমদাদুল হক তুহিনের তিন পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের দ্বিতীয় পর্ব আজ।

‘ছোটবেলা থেকেই রয়্যাল এনফিল্ডের প্রতি একটা শখ ছিল। বাইকটির প্রতি ভালোবাসা ছিল। মুভিতে এই বাইকটি প্রায়ই দেখা যেতো। পাশের দেশ ভারতেও এর চলার অনুমতি ছিল। আমি মূলত ক্রুজার বাইক পছন্দ করি, তাই রয়্যাল এনফিল্ডের এই বাইকটি কিনেছি।’

কথাগুলো বলছিলেন ঢাকার দোহারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন সোহান (২৬)। তরুণ এই ব্যবসায়ী চার মাস আগে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা ব্যয়ে রয়্যাল এনফিল্ড ক্ল্যাসিক ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলটি কিনেছেন।

সোহান বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে মোটরসাইকেল চালাই। এটি আমার ৭ নম্বর বাইক। নিজের জমানো টাকায় বাইকটি কিনেছি। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছিলাম। কেনার পর মনে হয়েছে- একটা স্বপ্ন পূরণ হলো।’

ছবি: মাহবুব আলম

প্রায় একই ধরনের কথা বলেন ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী শেখ সুফিয়ান (৩১)।

রাজধানীর উত্তরার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সুফিয়ান বলেন, ‘অনেক বছরের শখ ছিল আর১৫ চালাবো। এটি আমার ৬ নম্বর বাইক। ১৫ বছর ধরে বাইক চালাচ্ছি। বিভিন্ন বাইকের আপডেট ভার্সনে যেতে যেতে এখন আর১৫-এ এসেছি। এই মোটরসাইকেল কিনতে আমার তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিন বছরে এই টাকা জমিয়েছি। কোনো মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার, কোনো মাসে ১৫ হাজার। এভাবেই টাকা জমেছে। আর আগের মোটরসাইকেল বিক্রির টাকাও জমানো টাকার সঙ্গে যোগ হয়েছে।’

শুধু সোহান কিংবা সুফিয়ানই নন, ফ্যাশনেবল ও দামি মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই। তরুণ ও শৌখিন মোটরসাইকেলপ্রেমীরা এখন উচ্চ সিসি ও দামি মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছেন। অনেকে এসব বাইককে তারুণ্যের প্রতীক হিসেবেও আখ্যা দেন। দেশে ধীরে ধীরে দামি মোটরসাইকেলের বাজারও বড় হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরে এই বাজার ৫ থেকে বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। দামি মোটরসাইকেলের বাজার দেশে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে জানিয়েছে কোম্পানিগুলো।

ছবি: মাহবুব আলম

তথ্য বলছে, দেশে যাত্রা শুরুর পর মাত্র এক বছরেই প্রায় ১৩ হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করেছে শীর্ষ ব্র্যান্ড রয়্যাল এনফিল্ড। প্রতিটি বাইকের দাম গড়ে চার লাখ টাকা ধরলেও বছরে ৫০০ কোটি টাকারও বড় বাজার রয়েছে এই ব্র্যান্ডটির।

আরও পড়ুননতুন বাইক আনছে রয়্যাল এনফিল্ডহার্লে ডেভিডসন নতুন বাইক আনলো বাজারে নির্বাচন ঘিরে বিক্রি বেড়েছে মোটরসাইকেলেরকাওয়াসাকির ১১০০ সিসির বাইক, কী আছে এতে?

আরেক শীর্ষ ব্র্যান্ড ইয়ামাহার সবচেয়ে দামি বাইক আর১৫ এর বাজারও ১০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ব্র্যান্ডটির নতুন আসা ২৫০ সিসির এফজেড-২৫ মোটরসাইকেলের বাজারও প্রায় ৬০ কোটি টাকার কম নয়। রয়্যাল এনফিল্ডের ৩৫০ সিসি মোটরসাইকেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিতে ইয়ামাহা, সুজুকি ও বাজাজ পালসারও ২৫০ সিসির মোটরসাইকেল বাজারে এনেছে।

কোম্পানিগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে উচ্চ সিসি বা দামি মোটরসাইকেলের বাজার মোট বাজারের মাত্র ৫ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থের হিসাবে এই বাজার কয়েক হাজার কোটি টাকারও বেশি।

ছবি: মাহবুব আলম

দেশে গণপরিবহনের নাজুক অবস্থা ও যানজটের কারণে মোটরসাইকেলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তুলনামূলক কম দামি ও জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ায় দুই চাকার এই পরিবহনটি এখন অনেকের সঙ্গী হয়ে উঠছে। রাইড শেয়ারিং সেবার জনপ্রিয়তায় মোটরসাইকেল এখন অনেকের কর্মসংস্থানের উৎসও হয়ে উঠেছে। এসবের ওপর ভর করে বড় হচ্ছে মোটরসাইকেল শিল্পের বাজার। একইসঙ্গে বড় হচ্ছে দামি ও উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের বাজারও।

শীর্ষ ব্র্যান্ড রয়্যাল এনফিল্ড জানায়, যাত্রা শুরুর মাত্র এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। দেশে প্রত্যাশা অনুযায়ী রয়্যাল এনফিল্ডের চাহিদা রয়েছে। প্রথম বছরে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি অর্ডার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কোম্পানির ঊর্ধ্বতন এব কর্মকতা বলেন, ‘দেশে বহু বছর রয়্যাল এনফিল্ডের অনুমতি ছিল না। এর প্রতি মানুষের ক্রেজও ছিল অনেক। প্রথম দিকে এর ডেলিভারি দেওয়ার সময় সাত মাসে পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের মধ্যে আগের বুকিং দেওয়া সব মোটরসাইকেল সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মকর্তা জানান, ভবিষ্যতেও রয়্যাল এনফিল্ডের চাহিদা স্থিতিশীল থাকবে। কারণ বাংলাদেশে বছরে ১০ থেকে ১৫ হাজার ক্রুজার মোটরসাইকেলের চাহিদা রয়েছে।

ছবি: মাহবুব আলম

তথ্য বলছে, বাজারে রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেলের দাম সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকার কিছু বেশি। গড়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা করে ধরলে ১৩ হাজার মোটরসাইকেলের দাম দাঁড়ায় ৪৫৫ কোটি টাকা। আর প্রতিটির দাম চার লাখ টাকা ধরলে ৫২০ কোটি টাকা ও সাড়ে চার লাখ করে হিসাবে দাঁড়ায় ৫৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বছরে রয়্যাল এনফিল্ডের বাজার ৫০০ কোটি টাকার কম নয়।

দামি ও উচ্চ সিসির মোটরসাইকেলের বাজার প্রসঙ্গে এসিআই মোটরস লিমিটেডের ইয়ামাহা’র সেলস ডিরেক্টর মো. জাকির হোসাইন জাগো নিউজকে বলেন, মোটরসাইকেলের মোট বাজারের মাত্র ৫ শতাংশ উচ্চমূল্যের বা হাই সিসির। এটি হয়তো আগামী কয়েক বছরে ১০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেলের বাজার খুব বড় না হলেও সবাই (কোম্পানি) এখন উচ্চমূল্যের বা হাই সিসির মোটরসাইকেলে নজর দিচ্ছেন। হায়ার সিসির জায়গায় যেতে চাচ্ছেন।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ইয়ামাহার ২৫০ সিসির মোটরসাইকেল বাজারে এসেছে ৫ থেকে ৬ মাস হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত ২৫০ সিসির প্রায় দেড় হাজার মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পেরেছি।’

আরও পড়ুনবাড়ছে উচ্চ সিসির স্পোর্টস বাইকের চাহিদাবাইক নিয়ে লম্বা ট্যুরে গেলে যেসব বিষয়ে নজর রাখা জরুরিকত কিলোমিটার চালানোর পর বাইকের সার্ভিসিং প্রয়োজন?

জাগো নিউজকে একই ধরনের তথ্য দেন এসিআই মোটরস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হোসাইন মোহাম্মদ অপশনও।

তথ্যমতে, প্রতি বছর ইয়ামাহা আর-১৫ মোটরসাইকেল বিক্রি হয় অন্তত দেড় হাজারের বেশি। গড়ে ৬ লাখ টাকা ধরলে আর-১৫ এর বাজার দাঁড়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার। ব্র্যান্ডটির নতুন আসা ২৫০ সিসির এফজেড-২৫ মোটরসাইকেলের বাজারও প্রায় ৬৪ কোটি টাকার বেশি। প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ মোটরসাইকেলের দাম তিন লাখ টাকার ওপরে। সে হিসাবে এই ব্র্যান্ডটির দামি মোটরসাইকেলের বাজারও বেশ বড়। অন্য কোম্পানিগুলোর বাজারের চিত্রও প্রায় অভিন্ন।

ছবি: মাহবুব আলম

এ প্রসঙ্গে টিভিএস অটোস বাংলাদেশ লিমিটেডের সিইও বিপ্লব কুমার রায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশে উচ্চ সিসি ও প্রিমিয়াম মোটরসাইকেলের চাহিদা এখন চোখে পড়ার মতো বাড়ছে। ১৫০ সিসির ওপরের সেগমেন্টে গ্রাহকের আগ্রহ আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এ কারণেই টিভিএস বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে নতুন প্রোডাক্ট প্ল্যানিং করছে। টিভিএসও খুব শিগগির উচ্চ সিসির মোটরসাইকেল বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশের প্রিমিয়াম বাইক বাজার বর্তমানে দুই লাখ ২০ হাজার থেকে সাড়ে চার লাখ টাকার সেগমেন্টে দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে এই বাজার মোট শিল্পের ১৫ থেকে ২০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এ বাজারের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

পছন্দের শীর্ষে দামি মোটরসাইকেল

দেশের তরুণ প্রজন্ম উচ্চ দামের বা অধিক সিসির মোটরসাইকেলের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষত বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী, উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, রাজনৈতিক কর্মী ও ব্যবসায়ীরা এসব মোটরসাইকেলের প্রতি বেশি আগ্রহী। আবার করপোরেট শ্রেণির অনেকে হাই সিসির বাইক কিনছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা শহরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হচ্ছে এমন অধিকাংশ মোটরসাইকেলই এখনো ১৫০ সিসি বা তার ওপরের। নগরীতে এখন ৩৫০ সিসি ক্ষমতাসম্পন্ন রয়্যাল এনফিল্ড প্রায়ই চোখে পড়ে। ইয়ামাহার আর১৫, সুজুকি জিএসএক্স ও জিক্সারএসএফ এবং হোন্ডার উচ্চ দামের মোটরসাইকেলের হরহামেশাই দেখা মেলে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফ্যাশনেবল ও উচ্চ দামি মোটরসাইকেলের প্রতি বেশ আগ্রহ রয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয়ের শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসব মোটরসাইকেলের আধিক্য লক্ষ্য করা যায়। এর বাইরে সংসদ ভবন, পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়ক, ঢাকা-মাওয়া হাইওয়েতে মোটামুটি প্রতিযোগিতা চলে এসব মোটরসাইকেলের। তবে অনেকে নিতান্ত শখের বশেই নিরাপদ যাত্রার জন্যও পছন্দের দামি মোটরসাইকেলটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুনবাড়ছে উচ্চ সিসির স্পোর্টস বাইকের চাহিদাবাইক নিয়ে লম্বা ট্যুরে গেলে যেসব বিষয়ে নজর রাখা জরুরিকত কিলোমিটার চালানোর পর বাইকের সার্ভিসিং প্রয়োজন?

সম্প্রতি রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে কথা হয় ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র আব্দুর রহমান জয়ের সঙ্গে। তিনি হোন্ডা সিবিআর মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন, যে বাইকটির দাম প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা।

আব্দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ইন্টার প্রথম বর্ষে থাকার সময় বাবাকে এই বাইক কিনে দিতে বলেছিলাম। বাইকটি পেতে ভালো রেজাল্ট করতে হয়েছে। দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

ছবি: মাহবুব আলম

তিনি বলেন, ‘হোন্ডা সিবিআরের ইঞ্জিন রিয়েলিবিটি খুব ভালো। এটার মেইটেন্যান্স খরচ হয়তো একটু বেশি। কিন্তু এই বাইকের ওপর আস্থা খুবই বেশি। মাইলেজও অনেক বেশি। আর দামি বাইকে ব্যালেন্সিং ভালো। ফলে দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কাও কম থাকে।’

এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘ছেলে বাইকটি পছন্দ করে বলেই বাবা কিনে দিয়েছেন। বাইকটি পেতে পড়ালেখায় আমাকেও পরিশ্রম করতে হয়েছে। প্রায় সব বাইকই চালিয়েছি। হোন্ডা হোন্ডা-ই, এটি জেন্টেল ম্যানের স্পোর্টস বাইক।’

আরও পড়ুননতুন রূপে জনপ্রিয় মডেলের বাইক আনলো রয়্যাল এনফিল্ডকোন বাইক কতটা শক্তিশালী বুঝবেন কীভাবেসেকেন্ড হ্যান্ড বাইক কিনতে চাইলে যা জানা জরুরি

দোহারের তরুণ ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন সোহান নিজের জমানো সাড়ে চার লাখ টাকা দিয়ে চার মাস আগে রয়্যাল এনফিল্ডের ক্ল্যাসিক মোটরসাইকেল কিনেছেন।

জাগো নিউজকে সোহান বলেন, ‘আমি চার মাস আগে এই বাইকটি কিনেছি। ছয় হাজার কিলোমিটার চালিয়েছি। সব কিছুই ভালো। অন্য রকম কমফোর্ট। সব মিলিয়ে একটা অন্য রকমের ফিল। অন্য মোটরসাইকেলের তুলনায় ব্র্যান্ডেই পার্থক্য। ল্যাক্সারিয়াসের একটি ব্যাপার রয়েছে, যেটি কমিউটার বাইকে নেই। প্রায় ১০ বছর ধরে মোটরসাইকেল চালাই। এটি আমার ৭ নম্বর বাইক। এটি হাতে পাওয়ার পর খুব ভালো লেগেছে। কারণ বাইকটি কেনার জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম।’

ইয়ামাহার আর-১৫ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী শেখ সুফিয়ান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক বছরের শখ ছিল আর-১৫ ফাইভ চালাবো। এই মোটরসাইকেল কিনতে আমার তিন বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। তিন বছরে এই টাকা জমিয়েছি। কোনো মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা জমিয়েছি। আবার কোনো মাসে ১৫ হাজার। এভাবেই টাকা জমেছে। আর আগের মোটরসাইকেল বিক্রির টাকাও জমানো টাকার সঙ্গে যোগ হয়েছে। আগে যেগুলো চালিয়েছি সেগুলো স্পোর্টস বাইক নয়। এটি পরিপূর্ণ ও আধুনিক স্পোর্টস বাইক।

দামি মোটরসাইকেলের বাজার প্রসঙ্গে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘উচ্চমূল্যের মোটরসাইকেলের বাজার ৩ থেকে ৪ শতাংশের বেশি নয়। উচ্চ মডেলে বেশির ভাগ কোম্পানি স্পোর্টস বাইক এনেছে। সামনের দিনে বাজার পরিবর্তন হয়ে যাবে। সবাই ইলেকট্রিক মোটরসাইকেলে চলে যাচ্ছে। ইলেকট্রিকে চলে গেলে ইঞ্জিন বা সিসির আর কোনো গল্প থাকছে না। ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দামের বা উচ্চমূল্যের বাইকের বাজার ৪ থেকে ৫ শতাংশের বেশি নয়।’

মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল শিল্পে নতুন অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। উবার ও পাঠাওয়ের মতো অ্যাপ জনপ্রিয় হওয়ায় অনেকেই এ পেশায় এসেছেন। মোটরসাইকেল শিল্পে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান এ দেশে বিনিয়োগ করেছে। অর্থনীতি যত ভালোর দিকে যাবে, এসব যানবাহনের চাহিদা তত বাড়বে। বেশিরভাগ মোটরসাইকেলের দাম ১ থেকে ৩ লাখ হওয়ায় অনেকেই তা সহজে কিনতে পারেন। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও মালেশিয়ার অর্থনীতিতে মোটরসাইকেল বড় অবদান রাখছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও কর্মসংস্থান তথা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে মোটরসাইকেল শিল্প অবদান রাখছে।’

তবে দেশে এখন মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বিলিং হলেও ভবিষ্যতে ইঞ্জিন থেকে শুরু করে সবকিছুই বাংলাদেশে উৎপাদন হবে বলে মনে করেন তিনি। শুধু মোটরসাইকেলই নয়, একসময় বাংলাদেশ গাড়িও উৎপাদন হবে বলে তার মত। দেশীয় প্রতিষ্ঠানসহ বাংলাদেশ থেকে একসময় মোটরসাইকেল রপ্তানি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ইএইচটি/এএমএ/এমএমএআর/এমএফএ/এমএস