আন্তর্জাতিক

মাদুরোকে উৎখাতে বিশ্বাসঘাতকের দলে ছিলেন ডেলসি রদ্রিগেজ!

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বর্তমান রাষ্ট্রপ্রাধন ডেলসি রদ্রিগেজ ও তার ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ। তারা গোপনে ট্রাম্প প্রশাসনকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বলে এ ঘটনায় ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য গার্ডিয়ান।

সূত্রগুলোর মতে, মাদুরোর বিদায়ের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা প্রস্তুত। এই বার্তা গোপনে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেন ডেলসি রদ্রিগেজ ও জাতীয় পরিষদের প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ। ডেলসি রদ্রিগেজ গত ৫ জানুয়ারি মাদুরোর স্থলাভিষিক্ত হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

রয়টার্স জানায়, ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলোও মাদুরো অপসারণের কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। তিনি দেশটির পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর নিয়ন্ত্রণে আছেন।

গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদুরোর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের যোগাযোগ শুরু হয় ২০২৪ সালের শেষের দিকে। নভেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পরও এই যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ওই ফোনালাপে ট্রাম্প মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা ছাড়ার দাবি জানালে মাদুরো তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

ডিসেম্বরে আলোচনায় যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডেলসি রদ্রিগেজ স্পষ্টভাবে বলেন, ‘মাদুরোর যাওয়া দরকার।’ আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ডেলসি যুক্তরাষ্ট্রকে বলেন, ‘পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমি কাজ করতে প্রস্তুত।’

সূত্রগুলো বলছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও শুরুতে শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের লোকজনের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে পরে তিনি মনে করেন, মাদুরোর পতনের পর বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ডেলসি রদ্রিগেজের প্রস্তাবই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।

মাদুরো অপসারণের আগে ডেলসি ও হোর্হে রদ্রিগেজের এই সহযোগিতার অঙ্গীকার আগে প্রকাশ পায়নি। গত অক্টোবরে মায়ামি হেরাল্ড কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এক ব্যর্থ আলোচনার কথা জানিয়েছিল, যেখানে ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর পদত্যাগের পর একটি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেন।!

শাসরুদ্ধকর ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামে ৩ জানুয়ারি পরিচালিত অভিযানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে যাদের মধ্যে ৩০ জনের বেশি কিউবার সামরিক সদস্য।

এরপর ৫ জানুয়ারি অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে নিউইয়র্কের আদালতে তোলা হয় মাদুরো এবং সিলিয়া ফ্লোরেসকে। তবে তার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আনা এসব অভিযোগে নিজেকে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেছেন নিকোলাস মাদুরো।

আদালতে মাদুরো বলেছেন, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে আমাকে অপহরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

কেএম