সরকারের রাজস্ব আয়ের অন্যতম ভাণ্ডার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার তিন শুল্কবন্দর (বড়ছড়া-চারাগাও-বাগলী) সংশ্লিষ্ট অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক পরিবারে এবার ঈদ আনন্দ ফিঁকে হয়ে গেছে। ভারতীয় অভ্যন্তরীণ কারণে দফায় দফায় এই তিন বন্দরের আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্দর এলাকায় বর্তমানে সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। ফলে বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্ট অর্ধ লক্ষাধিক শ্রমিক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেউ কেউ মানবেতর দিনযাপন করে অপেক্ষার প্রহর গুণে অবশেষে জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে শহরপানে ছুটে যাচ্ছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে রয়েছেন অর্ধাহারে-অনাহারে। তাই এবারের ঈদ আনন্দ ফিঁকে হয়ে গেছে এসব পরিবারে। কবে নাগাদ আমদানি কার্যক্রম চালু হবে সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না এপার-ওপারের ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার নয়াবন্দ গ্রামের শ্রমিক মাফিকুল ইসলাম, মোস্তফা মিয়া বলেন, এলাকায় কাজ না থাকায় জীবিকার তাগিদে বর্তমানে তারা নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ এলাকায় কাজ করছেন। দুধের আউটা গ্রামের মজনু মিয়া তিনি কাজ করছেন সিলেটের জাফলং এলাকায়। ঈদ সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, গরীবের আবার কিসের ঈদ। একই গ্রামের শ্রমিক সুরঞ্জিত পাল। পরিবার-পরিজন নিয়ে তিনি বর্তমানে গাজীপুর এলাকায় শ্রম বিক্রি করছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, মাত্র দুই বছর আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের এলাকায় কয়লা শ্রমিকের কাজ করতে যেতো হাজার হাজার শ্রমিক। আজ আমরা কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে!তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের কোষাধ্যক্ষ জাহের আলী, জেলার ৩য় বারের শ্রেষ্ঠ করদাতা ভূষিত আমদানিকারক মোসতাক আহমদ, আমদানিকারক হাজী আব্দুল কুদ্দুছসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট শ্রমিক এর আশু সমাধানে সরকারকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ভারতের ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) নামে একটি পরিবেশবাদী সংগঠন পরিবেশ বিপর্যয়জনিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালের ১৪ মে ভারতীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। এরপর ১৬ মে থেকে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে এই তিনটি বন্দরসহ সিলেটের দুটি বন্দর দিয়ে কয়লা আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে প্রায় একবছর বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালের ১০ ও ১১ জানুয়ারি দুইদিন কয়লা রফতানি করে আবার বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ এপ্রিল চালুর পর ১ লা জুলাই থেকে ৩য় বারের মতো বন্দর তিনটির কার্যক্রম। সর্বশেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে চালুর পর ১৫ মে থেকে আবার বন্ধ হয়ে যায় আমদানি কার্যক্রম।এমএএস/এমএস