জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে আমট্ট রেলক্রসিংয়ে ভয়াবহ বাস-ট্রেন দুর্ঘটনার ১০ বছর পার হলেও এখনও সেখানে নির্মিত হয়নি কোনো রেলগেট কিংবা নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোনো গেটম্যান। এখনও ঝুঁকি নিয়ে এ রেলক্রসিং দিয়ে পারাপার হচ্ছে শত শত বাস-ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন। ২০০৬ সালের এ দিনে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরের আমট্ট রেলক্রসিং এ সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী রূপসা আন্তঃনগর ট্রেন আর নওগাঁ থেকে ছেড়ে আসা জয়পুরহাটগামী খেয়া পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় বাসটি দুমড়ে মুচড়ে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর এতেই প্রাণ হারায় ৩৫ জন বাসযাত্রী। আহত হয় আরো ৩৩ জন। দীর্ঘ ৯ বছর পর ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রেল-বিভাগ প্রাক্কলন ব্যয় প্রায় ১ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা ও নকশাসহ জয়পুরহাট সড়ক বিভাগের কাছে একটি চিঠি পাঠায়, তারপর জয়পুরহাট সড়ক বিভাগ একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তারিখে সেই চিঠি পাঠিয়ে দেয় বগুড়া (সার্কেল অফিস) সড়ক বিভাগের কাছে। তারা আবার সেই চিঠি পাঠায় রংপুর (জোন অফিস) সড়ক বিভাগের কাছে। এভাবেই চলছে দীর্ঘদিন ধরে চিঠি চালাচালি এবং একটি গেটম্যানসহ রেলগেটের ভাগ্য। জয়পুরহাট আক্কেলপুর পৌর এলাকার মাজহারুল ইসলাম ও আক্কেলপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক ফারুক হোসেন জানান, আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। ১০ বছর পার হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এখনও পর্যন্ত রেলগেট নির্মাণ হয়নি। মাইক্রোবাস চালক আতিক হোসেন, বাসচালক সিরাজুল ইসলাম ও ট্রাকচালক সুলতান হোসেন জানান, দুই সাইডে গাছ-পালা থাকার কারণে আমরা কিছুই দেখতে পায়না। যদি কোনো কারণে আবার একটা দুর্ঘটনা ঘটে যায় তবে সব দোষ তখন ড্রাইভারদেরই হয়। আক্কেলপুর রেল স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, রেল বিভাগের অনুমতি ছাড়াই এ রেলক্রসিং এর উপর দিয়ে সড়ক নির্মাণ করেছে সড়ক বিভাগ। কাজেই গেট নির্মাণের দায়ীত্ব তাদেরই। তবে এ লক্ষ্যে প্রাক্কলন ব্যয়সহ সড়ক বিভাগের কাছে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।জয়পুরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, রেল বিভাগের দেওয়া চিঠি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।আক্কেলপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল জানান, রেল বিভাগ আর সড়ক বিভাগের এমন রশি টানাটানির কথা যাই হোক না কেনো, এখানে গেট নির্মাণসহ গেটম্যান নিয়োগ অতি জরুরি।জেলায় ৭২ কিলোমিটার রেল লাইনে এমন অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে কমপক্ষে ২০টি, যেগুলো এখন পরিণত হয়েছে মরন ফাঁদে। রেলক্রসিং গুলোতে দ্রুত গেটনির্মাণসহ গেটম্যান নিয়োগ দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ নিবেন কর্তৃপক্ষ, এমনটি আশা করছেন সচেতন মহল।এফএ/পিআর