টুর্নামেন্টের শুরুতে সাইড বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তাকে দলে না নেওয়ার বিষয়ে করা প্রশ্নে নেতিবাচক উত্তর দিয়েছেন অধিনায়ক সূর্য কুমার যাদব। বাবা মারা যাওয়ায় রিঙ্কু সিং দল ছেড়ে যাওয়ায় আচমকা সুযোগটা আসে। আর সেটাই দুহাত ভরে কাজে লাগান। বলা হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে চমক সঞ্জু স্যামসনের কথা।
ডানহাতি এই ব্যাটার সুপার এইটের শেষ ম্যাচ থেকে ফাইনাল, টানা তিন ম্যাচে করেন বিস্ফোরক ফিফটি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫ ম্যাচ খেলেই ৩২১ রান করে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আসর সেরার পুরস্কার জিতে নেন। অথচ দলের বাকিরা খেলেছেন ৯টি করে ম্যাচ। ৪ ম্যাচ কম খেলেও অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে যাওয়া স্যামসন এখন যেন ঘোর আর স্বপ্নের মাঝে ভাসছেন।
কেরালার এই ব্যাটারের পরিসংখ্যান রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। ১৯৯.৩২ স্ট্রাইকরেটে রান করার পথে টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ২৪টি ছক্কাও এসেছে তার ব্যাট থেকে। বিশেষ করে সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসটিই ভারতের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। এরপর সেমিফাইনাল ও ফাইনালে টানা দুই ম্যাচে ৪২ ও ৪৫ বলে ৮৯ রানের দুটি ঝোড়ো ইনিংস খেলে দলকে এনে দিয়েছেন শিরোপা। সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও দলের স্বার্থে বড় শট খেলতে গিয়ে দুবারই নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন সাজঘরে।
পুরস্কার হাতে নিয়ে স্যামসন আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, সবকিছু তার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘স্বপ্নের মতো লাগছে। খুবই আনন্দিত এবং কৃতজ্ঞ। প্রকাশের কোনো ভাষা নেই, সব আবেগ যেন ফুরিয়ে গেছে।’
তবে স্যামসন এই সাফল্যের বীজ বপন করেছিলেন দুই বছর আগেই। তিনি বলেন , ‘সত্যি বলতে, এটা এক-দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ দলে যখন ছিলাম কিন্তু খেলার সুযোগ পাইনি, তখন থেকেই আমি কল্পনা করতাম, কাজ করে যেতাম এবং ঠিক এটাই আমি করতে চেয়েছিলাম। নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম, আমার স্বপ্নগুলো তছনছ হয়ে গিয়েছিল। আমি ভাবছিলাম এখন কী করা যায়। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করার জন্য আমি পুরস্কৃত হয়েছি।’
নিজের এই পরিবর্তনের নেপথ্যে ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বড় ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন স্যামসন, ‘অনেক প্রাক্তন খেলোয়াড় আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। গত কয়েক মাস ধরে আমি শচীন স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আমি তার কাছে গিয়েছিলাম এবং তার সঙ্গে অনেক বড় বড় আলোচনা হয়েছে। তার মতো কারোর কাছ থেকে নির্দেশনা পাওয়া—এর চেয়ে বেশি আর কী চাওয়ার থাকতে পারে?’
‘যারা আমাকে সমর্থন করেছেন তাদের সবার প্রতি আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আমার জন্য এটাই অনেক বড় কিছু, আমি আপাতত এটা উপভোগ করতে চাই’- বলেন স্যামসন।
এসকেডি/এমকেআর