লাইফস্টাইল

আদরের চুমু নবজাতকের জন্য কতটা বিপজ্জনক জানেন কি

নবজাতককে কোলে নিয়ে পরিবারের সদস্যরা আদর করতে গিয়ে গাল বা মুখে চুমু দেন, হাতে ধরে থাকেন - এসবই ভালোবাসা থেকেই করেন সবাই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই একটি ছোট ভালোবাসার প্রকাশও শিশুর জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে।

জীবনের প্রথম কয়েক মাসে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি শক্তিশালী হয়ে ওঠে না। ফলে খুব সামান্য ভাইরাস সংক্রমণও তাদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সাধারণ সর্দি বা হালকা জ্বর খুব বড় বিষয় নয়। কিন্তু নবজাতকের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখনও শেখার পর্যায়ে থাকে। তাই সামান্য সংস্পর্শেও ভাইরাস সহজে শিশুর শরীরে ঢুকে পড়তে পারে।

কেন নবজাতকের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকে

জন্মের সময় শিশুর ইমিউন সিস্টেম পুরোপুরি পরিপক্ব থাকে না। মায়ের শরীর থেকে কিছু অ্যান্টিবডি পেলেও বেশিরভাগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে তৈরি হয়। এই সময় শরীরকে নতুন নতুন জীবাণুর সঙ্গে পরিচিত হতে হয় এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময় লাগে।

এ কারণেই জীবনের প্রথম কয়েক মাসে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। বিশেষ করে শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাসগুলো শিশুদের দ্রুত অসুস্থ করে তুলতে পারে। তাই নবজাতক তার মায়ের আদরেই সবথেকে নিরাপদ থাকে।

আরএসভি: নবজাতকদের জন্য বড় ঝুঁকি

শ্বাসতন্ত্রের একটি সাধারণ ভাইরাস হলো আরএসভি (রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস)। বড়দের ক্ষেত্রে এটি অনেক সময় সাধারণ সর্দির মতোই মনে হয়। কিন্তু নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাস গুরুতর শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।

প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণ আসে পরিবারের এমন কারও কাছ থেকে, যার হয়তো শুধু হালকা সর্দি ছিল।

নবজাতকেরা এখনও শ্বাসনালীতে জমে থাকা কফ ঠিকভাবে বের করতে পারে না। জ্বর নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাও তাদের কম থাকে। তাই ভাইরাস সংক্রমণ দ্রুত জটিল হয়ে যেতে পারে।

চুমু থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে

শিশুর মুখ, হাত বা গালে চুমু দিলে অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরের ভাইরাস শিশুর শরীরে চলে যেতে পারে। বিশেষ করে কেউ যদি সর্দি, কাশি বা ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় ভুগে থাকেন, তাহলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

এ কারণে অনেক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ নবজাতকের মুখে বা হাতে চুমু না দেওয়ার পরামর্শ দেন। এটি কোনো সামাজিক অস্বস্তি তৈরি করার জন্য নয়; বরং শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য একটি সতর্কতা।

কীভাবে নবজাতককে নিরাপদ রাখা যায়

নবজাতকের আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে ধরার আগে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেওয়া উচিত। কেউ অসুস্থ থাকলে শিশুর কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো।

শিশুর মুখ বা হাতে চুমু দেওয়া এড়িয়ে চলা এবং ভিড়ের মধ্যে খুব বেশি না নেওয়াও উপকারী। এসব ছোট সতর্কতা নবজাতককে অনেক সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

সচেতনতা মানেই অতিরিক্ত ভয় নয়

নবজাতককে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য কিছু সীমা নির্ধারণ করা অতিরিক্ত সতর্কতা নয়। বরং এটি সচেতন যত্নের অংশ। শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হতে সময় লাগে। সেই সময়টুকু নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা মা–বাবা ও পরিবারের দায়িত্ব।

সঠিক সচেতনতা এবং ছোট ছোট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নবজাতক সুস্থভাবে বড় হওয়ার সুযোগ পায়।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট

এএমপি/এএসএম