অর্থনীতি

ঈদের আগেই কেজিতে মুরগির দাম বেড়েছে ১০০ টাকা পর্যন্ত

সামনে ঈদুল ফিতর। এ সময় মুরগির মাংসের চাহিদা থাকে বেশি। তবে ঈদের আগেই ব্রয়লার, সোনালি, লেয়ার ও দেশি মুরগির দাম বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ঢাকার বাজারে এসব মুরগির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি প্রায় ৫০ টাকা। দেশি মুরগির দাম বেড়েছে প্রায় ১০০ টাকা।

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদে মুরগির চাহিদা বাড়ে। যে কারণে খামারিরা এখন মুরগি বিক্রি কমিয়ে দিয়েছেন। কয়েকদিন হাতে রেখে ঈদের মধ্যে বিক্রি করতে চান, যা প্রভাব পাইকারি বাজারে পড়েছে।

অন্যদিকে খামারিরা বলছেন, ঈদে মুরগির বাড়তি চাহিদা পুঁজি করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এক-দুই মাস আগে বাচ্চার দাম তিনগুণ বাড়িয়েছিল। যে কারণে খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার ২১০ থেকে ২৩০ টাকা, সোনালি ও লেয়ার মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, গত এক সপ্তাহে এসব মুরগি কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। যেখানে আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা ছিল। সোনালি মুরগি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা ও লেয়ার ২৭০ থেকে ২৯০ টাকা বিক্রি হতো।

অন্যদিকে প্রতি কেজি দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৬০০ টাকা।

রামপুরা বাজারের মুরগি বিক্রেতা ফরিদ হোসেন বলেন, ঈদে মুরগির চাহিদা থাকে। বড়লোকও খায়, গরিব আরও বেশি খায়। রেস্টুরেন্টেও চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এরই মধ্যে কিছুটা চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সেভাবে সরবরাহ নেই।

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে সেভাবে মুরগি আসছে না। আর পাইকারি বাজারে প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ টাকা করে দাম বাড়ছে। ঈদের দু-চারদিন আগে আরও বেড়ে যাবে বলে মনে হচ্ছে।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাজারে জরিনা ব্রয়লার হাউজের মালিক আরিফুল ইসলাম বলেন, খামারিরাও চেষ্টা করছেন ঈদের মধ্যে মুরগি বিক্রি করতে। তবে তারা খামারে আরও কয়েকদিন মুরগি রাখতে চান। সে কারণে সরবরাহ কম-আমরা দাম বাড়ার কারণ এটাই জানি।

দীর্ঘদিন মুরগির বাজার নিম্নমুখী ছিল। দাম না পেয়ে অনেকে খামারে মুরগি রাখেননি। এখন চাহিদা বাড়বে, এরমধ্যে মুরগির বাজারে সংকট তৈরি হচ্ছে- এটি এক ধরনের সিন্ডিকেট বলে মনে করেন ক্রেতারা।

জনি নামের একজন ক্রেতা বলেন, রমজান-ঈদ এলে এ দেশে পণ্যের দাম বাড়ার একটি রীতি হয়ে গেছে। আমরা এরমধ্যে থেকে বের হতে পারবো না। নীরবে মেনে চলা ছাড়া উপায় নেই।

মুরগির দাম বৃদ্ধির জন্য বাচ্চা উৎপাদনকারী করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, এখন যে মুরগিগুলো বাজারে এসেছে, এগুলোর বাচ্চা এক-দেড়মাস আগে কেনা। ওই সময় কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে বাচ্চার দাম ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০ টাকা বিক্রি করেছে।

সুমন হাওলাদার বলেন, এ কারণে মুরগির দাম বাড়লেও প্রান্তিক খামারিদের মুনাফা হচ্ছে না। কারণ তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

এনএইচ/বিএ