শ্রমিক অসন্তোষের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জের মাধবপুরের ব্যক্তি মালিকানাধীন বৈকণ্ঠপুর চা বাগানে উৎপাদন শুরু হয়েছে। বুধবার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিলেও বৃহস্পতিবার থেকে উৎপাদন শুরু হয়।বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিকরা জানান, গত ১৭ মে থেকে হঠাৎ করে মালিক পক্ষ শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া বিদ্যুৎবিল বকেয়া থাকায় বিচ্ছিন্ন করা হয় কারখানা ও বাসাবাড়ির সংযোগ। এ অবস্থায় চা বাগানের নিয়মিত ৪০০ শ্রমিকসহ প্রায় ২ হাজার বাসিন্দা অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। দেখা দেয় খাদ্যাভাব। বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসাসেবা। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। সমস্যা উত্তোরণের জন্য শ্রমিকরা বাগানে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। সমস্যা সমাধানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শ্রম অধিদফতরের লোক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা একাধিকবার বৈঠকে বসেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর শ্রম অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে চা বাগানের পরিচালক পিকে মুখার্জি, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী, লস্করপুর ভ্যালির শ্রমিক নেতা ও বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে ১০ জুলাই শ্রীমঙ্গলে ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধ ও সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমিকরা ১৩ জুলাই কাজে যোগ দেন।বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের শ্রমিক নেতা খোকন ব্যানার্জি জানান, আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যে চা বাগানটি বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে প্রায় ২ হাজার চা বাগান বাসিন্দা মারাত্মক অসুবিধার মধ্যে পড়েন। এ ব্যাপারে বাগানের পরিচালক পিকে মুখার্জি জানান, ২০১৩ সালের হরতাল, অবরোধের সময় বৈকণ্ঠপুর চা বাগানের উৎপাদিত চা-পাতা বিক্রি করা যায়নি। তখন বাগানটি বিরাট আর্থিক লোকসানের মধ্যে পড়ে। তিনি আরো বলেন, গত বছরের অক্টোবর থেকে কৃষি ব্যাংক ঋণ বন্ধ রয়েছে। এসব আর্থিক সংকটের মধ্যেও ধারদেনা করে শ্রমিকদের রেশন, মজুরি ও অন্যান্য বকেয়া পরিশোধ করা হয়। বাগানটি চালু রাখার স্বার্থে সরকারি আর্থিক প্রণোদনা ও ব্যাংক ঋণ মঞ্জুর জরুরি।এখলাছুর রহমান খোকন/এসএস/আরআইপি