চৈত্রের খাঁ খাঁ রোদ, ঝড়বৃষ্টি কিংবা তীব্র শীত তাকে স্পর্শ করলেও থেমে নেই শ্রাবন্তীর অগ্রযাত্রা। শিক্ষার আলো পেতে প্রতিদিন সে ১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে যাচ্ছে স্কুলে। এমন দৃশ্য এখন অহরহ উত্তরের অবহেলিত জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে। শ্রাবন্তীর মতো অনেকেই বাইসাইকেলে এভাবেই স্কুলে যাওয়া আসা করছে নিয়মিত। এরা সবাই সাইকেল বালিকা নামে বেশ পরিচিত সবার কাছে। তাদের সাইকেলবহর যখন শুরু হয়, পথচারীরা সেই দৃশ্য গভীর মনোযোগের সঙ্গে অবলোকন করে। অনেকে তো এই দৃশ্যের মাঝে ফিরে পান নিজের সেই ছোটবেলাকে। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু কিংবা শেষ হলে এমন মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। বিশেষ করে আকঁচা, পল্টন, বুড়িরবাঁধ, চিলারং ইউনিয়ন থেকেও মেয়েরা আসে বাইসাইকেলে।তবে এসব কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পেছনের কাহিনী সুখকর নয়। শুধু শিক্ষার আলো পেতে প্রতিদিন এত দূরের পথ পাড়ি দিচ্ছে তারা। ওরা কেউই ধনী ঘরের সন্তান নয়। তারা কেউ শ্রমিক, কেউ দিনমজুর বাবা কিংবা মা এলাকার সঞ্চয় সমিতি থেকে কিস্তিতে টাকা নিয়ে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে বাইসাইকেল কিনে দিয়েছেন। তবুও শিক্ষার আলো পৌঁছুক তাদের ঘরে এটাই প্রত্যাশা তাদের।শনিবার দুপুরে বৃষ্টির মধ্যে ঠাকুরগাঁও শহর থেকে দক্ষিণে রুহিয়ার পথে যখন ছুটে চলছিল আমাদের গাড়িটি অপরদিক থেকে বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সাইকেল নিয়ে বাড়ি ফিরছিল শ্রাবন্তী। দৃশ্যটি ছিল ক্যামেরাবন্দি করার মতো। সঙ্গে সঙ্গে তাই করলাম।পেছন থেকে এই দাঁড়াও দাঁড়াও বলতেই বৃষ্টির মধ্যে থমকে দাঁড়ায় সাহসী মেয়ে শ্রাবন্তী। এরপর সেখানেই এক যাত্রী ছাউনিতে কথা হয় এই সাইকেল বালিকার সঙ্গে। শ্রাবন্তী জানায়, পড়াশোনার অনেক খরচ। তবু তাদের পড়াশোনা করে অনেক বড় হতে হবে। তাদের এলাকা থেকে স্কুলে আসতে গাড়ি কিংবা রিকশা পাওয়া যায় না। পেলেও আসতে যেতে ১০০ টাকা লাগে। তাই বাইসাকেল কিনে দিয়েছেন তার বাবা-মা।সে জানায়, স্কুলে আসতে যেতে প্রথম প্রথম বখাটে ছেলেদের উৎপাতসহ ছোটখাটো অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতো। বিশেষ করে দীর্ঘ পথ কাঁচা রাস্তা থাকায় বর্ষা মৌসুমে পিচ্ছিল পথে দুর্ঘটনা ঘটছে। তবুও এখন সবই সহে গেছে।রিকশা কিংবা বড় গাড়ি তাদের সাইড দিয়ে চলার পথকে সুগম করে দেয়। এতে তাদের এই যাত্রাকে প্রেরণাময় মনে হয়। এমন কথা জানালো বাইসাইকেল বালিকা শ্রাবন্তী। এ ব্যাপারে পুরনো ঠাকুরগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুশান্ত দেবনাথ জানান, মেয়েরা বাইসাইকেলে স্কুলে আসে এটা একটা রীতির মতো হয়ে গেছে। তবে তিনি চান না এসব কোমলমতি ছাত্রী অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনার শিকার হোক। এমএএস/আরআইপি