দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁওয়ে বাগান করে সফল হীরা

আমের বাগান ও ঔষধি গাছসহ কৃষিভিত্তিক কাজ করে সুনাম অর্জন করেছেন শিক্ষা কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম হীরা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের মলানি গ্রামে তার বাসা। প্রকৃতির প্রতি প্রাণের টান না থাকলে একজন শিক্ষা অফিসারের পক্ষে এমন বাগান করা সম্ভব নয়। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানায় কর্মরত ওই মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বাগানটির যাত্রা শুরু করেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা। ১০ বিঘা এলাকাজুড়ে আম বাগানটিতে আরো রয়েছে কয়েকশ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। বাগানের ভেতরে রয়েছে কয়েকটি পুকুর। সেখানে দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় মাছ চাষ করা হয়। এছাড়া সেখানে ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল পালন করা হয়। এছাড়া সেখানে বিদেশি জাতের আরো অনেক গরু পালন করা হয়।শিক্ষা কর্মকর্তা হীরা ১৯৯৩ সালে রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক পাস করেন। তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার (বর্তমান সরকার) সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সপ্তাহে দুই দিন ছুটি ঘোষণা করেন। তার কারণ এই যে সরকারি চাকরিজীবীরা আছেন, তারা যাতে সামাজিক ও পারিবারিক কাজে লিপ্ত হতে পারেন। আমি সেই থেকেই উদ্বুদ্ধ হয় চাকরি জীবনের পাশাপাশি এই বাগানটি করার উদ্যোগ নিই।তিনি আরো বলেন, বাগানের ভেতরে অনেক কিছুই আছে; তার মধ্যে মূলত আমি আম বাগান থেকেই বেশি লাভবান। আম বাগানে অনেক উন্নত প্রজাতির সুস্বাদু আমের গাছ আছে, যেগুলোতে ভালো ফলন হয়। আমি প্রতি বছর আমার বাগান থেকে কয়েক লাখ টাকার আম বিক্রি করতে পারি। এই বাগানে সুযোগ হয়েছে অনেকের কর্মসংস্থান।এ শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, যদি সমাজের সকল স্তরের চাকরিজীবী তার নিজ পেশার পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ করেন, তাহলে দেশের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে হবে। খাদ্যের জোগানের পাশাপাশি দেশ সমৃদ্ধি হিসেবে গড়ে উঠবে।মকবুল নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, হীরা ভাইয়ের এ উদ্যোগ দেখে গ্রামের মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়েছে। অনেকেই তাদের সাধ্যমতো কেউ আমের বাগান আবার কেউ পশু-পাখি পালন করছে। এতে তাদের আশপাশের মানুষ উদ্যোগী হচ্ছে। আর সেই সঙ্গে গ্রামের বেকারত্ব ও অভাব দূর হচ্ছে। অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন বলেও জানান মকবুল।  ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি, মলানি গ্রামে এমন বাগান তৈরি করেছেন হীরা নামে এক ব্যক্তি। তার ব্যক্তিগত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি আমাদের কাছ থেকে যদি ওই বাগান মালিকের কোনো সহযোগিতা বা পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।  রবিউল এহসান রিপন/এএম/এবিএস