কাজী আব্দুল হক। বিআইডব্লিউটিসি`র এমভি বার আউলিয়া জাহাজের মাস্টার অফিসার। চট্টগাম-নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল হাতিয়ায় প্রতিদিন যাত্রী পারাপার করেন তিনি।প্রতিদিনের মতো সোমবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২ টার সময় এমভি বার আউলিয়া জাহাজটি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে দ্বীপ হাতিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তিনি।পথিমধ্যে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী পার হয়ে বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় অথিরিটি বয়া অতিক্রম করতেই অন্যান্য জাহাজের Brake horse power (VHF) থেকে বার্তা আসে, ভাসান চর বয়া -১ (দ্বীপ হাতিয়া থেকে ১০ নটিকেল মাইলের পূর্বে) কাছে লবণ বোঝাই একটি ট্রলার (কার্পু বোট) প্রচণ্ড ঢেউ ও বাতাসে ডুবে মাঝি মাল্লা পানিতে ভাসছে।এমন সংবাদ শুনে তিনি চারদিকে তাকিয়ে দেখলেন ,শত শত জাহাজ ট্রলারটির পাশ দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু কেউ ডুবে যাওয়া মানুষগুলোকে সাহয্য করছে না। ঠিক তখন কাপ্তান আব্দুল হক তার লঞ্চে থাকা ২০০ যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ একটি দায়িত্ব নিলেন। লঞ্চটি ভাসমান লোকগুলোর কাছাকাছি গেলে লঞ্চে থাকা লাইফ বয়া, লাইফ জ্যাকেটসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি দিয়ে তাদের সকলকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন আব্দুল হক। পরে উদ্ধার হওয়া আ জনকে গরম কাপড় দিয়ে প্রাথমিকভাবে সুস্থ করে তোলেন আব্দুল হক। তারা এখনো ওই জাহাজে অবস্থান করছেন। ডুবে যাওয়া ট্রলারটি চট্টগ্রাম থেকে ৫ টন লবণ বোঝাই করে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বৈরী আবহাওয়া থাকায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আর বড় বড় ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।এমন একটি মহৎ কাজ করতে পেরে কেমন লাগছে এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুল হক জাগো নিউজকে বলেন, `মানুষ মানুষের জন্য। যদি অন্য সব জাহাজের মতো আমিও আমার লাইন অনুযায়ী চলে যেতাম তাহলে হয়তো এতক্ষণে তারা ডুবেই যেত। কিন্তু আমি আমার মানবিক দৃষ্টি থেকে চলে যেতে পারিনি।` তিনি আরো বলেন, `আমার জাহাজে থাকা যাত্রীরা প্রচণ্ড ঢেউ আর বাতাসের তোড়ে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যায়। আমি আমার লাইন ছেড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা মানুষগুলোর দিকে যাচ্ছিলাম এবং যাত্রীদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম। পরম করুণাময়ের অশেষ রহমতে আমি সকলকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। বর্তমানে তারা আমার জাহাজে আছেন। চট্টগ্রামে তাদের নামিয়ে দেয়া হবে।` কাজী আব্দুল হক নারায়ণগঞ্জের রুপগঞ্জ উপজেলার বোলাবো ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি ১৯৮২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জাহাজের কাপ্তান হিসেবে দায়িত্বরত রয়েছেন।মিজানুর রহমান/এসএস/এমএস