নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদকাসক্তদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বজনরা। প্রতিনিয়ত মাদকাসক্তদের শারীরিক নির্যাতনের মুখেও পড়তে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। লোক লজ্জায় এ সকল অত্যাচারের কথা তারা কাউকে বলতেও পারছে না আবার সইতেও পারছে না। মাদকাসক্তের হামলায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। অনেকে এ সকল মাদকাসক্তদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তাদের সোপর্দ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। অথবা তাদের তুলে দিচ্ছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্রের লোকদের হাতে। মাদক ব্যবসা বন্ধকরণ প্রসঙ্গে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল কামরুল হাসান (পিএসসি) জানান, বড় ধরনের মাদক চালান যারা আনছে তাদের আমরা গ্রেফতারের পাশাপাশি ছোট মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা। রাজধানী ঢাকার শেষ সীমানা থেকেই শুরু সিদ্ধিরগঞ্জের। পূর্বাঞ্চলের ১৮টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থানও সিদ্ধিরগঞ্জের উপর। পূর্বাঞ্চল থেকে মাদক পরিবহন করতে গিয়ে অনেকে সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়কে ব্যবহার করে থাকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে। শিমরাইল মোড়কে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে ইতোপূর্বে অনেক মাদক ব্যবসায়ী মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। ট্রানজিট পয়েন্ট হওযার কারণে এ এলাকার অলিগলিতে মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকটা সহজলভ্য হওয়ায় যুব সমাজ হয়ে পড়ছে মাদকাসক্ত। এ মাদকাসক্তরা এতোটাই নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে যে, মাদকের টাকা না পেয়ে অত্যাচার শুরু করছে পরিবারের সদস্যদের। মাদকাসক্ত ছেলের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সিদ্ধিরগঞ্জের বাতানপাড়া এলাকার এক মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তার ছেলেকে মাদক নির্মুল কেন্দ্রে পাঠান। মাদকাসক্ত ভাইয়ের একের পর এক অত্যাচার থেকে ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, সন্তান পরিত্রাণ না পাওয়ায় ২৫ জুলাই ভাইকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন এক রাজনৈতিক নেতার মধ্যস্থতায়। পুলিশ এ সময় তার কাছ থেকে কয়েক পিস ইয়াবা উদ্ধার করে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। মাদকাসক্ত ওই ভাই মাদক ক্রয়ের টাকা না পেলে পরিবারের সদস্যদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করার পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করতো। মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে ২২ জুলাই সাবেক স্বামী ইমরান তার সাবেক স্ত্রী লিপির ঘরে গিয়ে তাকে শিলপাটা দিয়ে প্রহার করে। সাবেক স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে মনে করে মাদকাসক্ত ওই স্বামী সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করে। মুমূর্ষু ওই স্ত্রীকে আদমজীর বিহারী কলোনি এলাকাবাসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় লিপি আক্তার ২৫ জুলাই দিাবগত রাতে মারা যায়। আবার ওই মাদকাসক্ত ৩০ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলহাজতে আত্মহত্যা করে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সার্বিক, ওসি) সরাফত উল্লাহ জানায়, মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে আমরা নিয়মিত অভিযানের পাশপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা-সেমিনার করছি। মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতিহত করতে আমরা মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করছি।হোসেন চিশতী সিপলু/এসএস/এমএস