কুড়িগ্রামে বন্যা কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। এখনো নিচু এলাকায় পানি অবস্থান করছে। বন্যায় স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ঘরবাড়িতে নোংরা-কাদার আস্তরণে চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। রোগব্যাধি ও অভাবের কারণে গবাদিপশু বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে অল্পমূল্যে। রোববার জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্যা পরবর্তী সময়ে জেলায় ৭ লাখ ২২ হাজার ২৩৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে নদী ভাঙনে সর্বশান্ত হয়েছে ২৪ হাজার ৮৮৫ জন। জেলার ২ হাজার ১৭৬ দশমিক ৮৭৯ বর্গ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১ হাজার ১৬৫ দশমিক ৫৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির সংখ্যা ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫২১টি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৬৩ জন।ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন রয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েছে সব শ্রেণির মানুষ। চলতি বন্যায় ৫৫৭ কিলোমিটার কাঁচা ও ৬১ কিলোমিটার পাকা রাস্তা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব রাস্তার ৩৯টি ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙে ও ভেসে গেছে। বাঁধ ভেঙে গেছে ৫৩ দশমিক ৩০ কিলোমিটার। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আড়াই শতাধিক।সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চর যাত্রাপুর গ্রামের আবুল হোসেনসহ কয়েকজন জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কাদা মাখা বাড়িঘরে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। নলূপগুলো কাদায় নষ্ট হয়ে গেছে। টয়লেট ভেঙে পড়ায় নারী ও শিশুদের খুব সমস্যা হচ্ছে। একই কথা জানান উলিপুরের হাতিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মাস্টার ও বেগমগঞ্জের চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, সবগুলো নদনদীর পানি এখন বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।কুড়িগ্রাম ত্রাণ বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল মোত্তালিব মোল্লা জানান, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৫ মেট্রিক টন চাল ও ৫৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৭৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩৮ লাখ টাকা বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদা দেয়া হয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৮ লাখ টাকা।নাজমুল হোসেন/এসএস/এমএস