প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া বাবুল। বয়স ৫-৬ হবে। সে সময় অপহরণের শিকার হয়। অপহরণকারীরা তাকে বিক্রি করে দেয় ভারতের নাগাল্যান্ড প্রদেশের ডিমাপুর এলাকার একটি চা বাগানে। সেখানে কাজ করতো এতদিন। বর্তমানে বয়স ১৭-১৮। দেখে বোঝা যায় হাড়ভাঙা খাটুনি তার দেহের রং পরিবর্তন করে দিয়েছে। চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ।বাবুলের কথায় বোঝা গেল তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়। বাবা আবুল কালাম। অপহরণকারীরা ২০০৩-০৪ সালের দিকে শিশুকালেই তাকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ঠিকানা সে ভুলে গেছে। জেলার নাম ছাড়া কিছুই মনে নেই। ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরের চা বাগানে অন্যান্য শ্রমিকের সঙ্গে অমানসিক পরিশ্রম করতে হতো তাকে। বিনিময়ে সে অর্ধাহার ছাড়া কিছুই পেত না। দুই সপ্তাহ আগে ভারতের একটি উগ্রপন্থী দল বাবুলসহ চা বাগানের ১০-১২ জন শ্রমিককে অপহরণ করে কর্তৃপক্ষের কাছে মুক্তিপণ দাবি করে। বন্দি অবস্থায় অপহরণকারীদের সঙ্গে কথা হলে বাবুল তাদের জানায় তার বাড়ি বাংলাদেশে। শিশুকালে তাকে অপহরণ করা হয়। এ কথা শোনার পর ধুবরী অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় ছেড়ে দিয়ে তাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে বলে অপহরণকারীরা। ৪ আগস্ট সীমান্ত অতিক্রম করে কুড়িগ্রামের কাচাকাটাতে আসে সে। বর্তমানে কেদার ইউনিয়নের গোলেরহাট বাসিন্দা আব্দুর রহমানের ছেলে জাকিরুলের বাড়িতে অবস্থান করছে। জাকিরুল জানায়, বাবুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। নিজের নাম, বাবার নাম এবং এনামুল নামের একজন বন্ধুর নাম বলতে পারে শুধু। ঠিকানা জানতে চাইলে ময়মনসিংহ ছাড়া কিছুই বলতে পারছে না।কাচাকাটা থানা পুলিশের ভারপাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির-উল-ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।এফএ/এমএস