নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিলাশবাড়ী ইউনিয়নের পারসোমবাড়ী হাট সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা গেছে, ভগবানপুর মৌজার ১ নং খতিয়ান ভুক্ত ৩৫০ নম্বর দাগে (শূন্য দশমিক ৩৩০) শতক সরকারি খাস জমির উপর আরসিসি পিলার দিয়ে পাকা ভবন নির্মাণ করায় উপজেলা ভূমি অফিসে অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোখলেছুর রহমান ঘটনাস্থল জরিপ করে উচ্ছেদ মামল সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর রেভিনিউ ডেপুটিকালেকটর নজরুল ইসলাম একই বছরের ৯ ডিসেম্বরে আরসিসি পিলার অপসারণের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন এবং শেখর আহাম্মেদকে নোটিশ দেয়া হয়। এরপরও পিলারগুলো অপসারণ না করে কাজ চালিয়ে যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বালু ভরা এবং বিলাশবাড়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা কালিপদ মালাকার ২১ ডিসেম্বরে নির্মিত ভবনটি উচ্ছেদের জন্য উচ্ছেদ মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।এসিল্যান্ড ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিলে শেখর আহাম্মেদকে তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শানোর জন্য নোটিশ দেন। শেখর আহাম্মেদ ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি উক্ত মৌজার ৩৪৫ নং হাল দাগে ৮ শতক এবং ৩৪৬ নং হাল দাগে ১০ শতকসহ মোট ১৮ শতক জমির দাবি করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নওগাঁ বরাবর একটি আবেদন করেন। কিন্তু ৩৫০ নং দাগে সরকারি জমির উপর তিনি যে ভবন নির্মাণ করছেন এ বিষয়ে আবেদনে কোনো কথা উল্লেখ করেননি।বদলগাছী ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ইয়াকুব আলী এবং সহকারী ভূমি কর্মকর্তা কালিপদ মালাকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।মুঠোফোনে শেখর আহাম্মেদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, নওগাঁ অতিরিক্ত জেলা প্রসাশকের (রাজস্ব) কাছে আবেদন করা হয়েছে। এর বেশি কিছু আর বলা যাবে না।বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী অফিসার হুসাইন শওকত বলেন, উচ্ছেদ মামলার নথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নওগাঁর কাছে দাখিল করা হয়েছে। কোনো ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ না করায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। তবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।আব্বাস আলী/এসএস/এবিএস