দেশজুড়ে

নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজটি অনন্য

দেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল ও একটি করে কলেজ জাতীয়করণের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে সারা দেশের ১৯৯টি বেসরকারি কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়েছে।এতে করে স্বল্প খরচে মানসম্মত শিক্ষা, দেশের প্রান্তিক জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়া ও শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের হার কমবে। তবে জাতীয়করণের তালিকায় এমন অনেক কলেজ রয়েছে, যেগুলো বিগত দিনগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মানসম্মত শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কাছে আলোর দিশারী আর অন্ধকারের বাতিঘর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। সদ্য সরকারি হওয়া সেই ১৯৯টি কলেজ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে থাকছে ক্যাম্পাসের সেই সব স্মৃতিকথা।নোয়াখালীর উত্তরাঞ্চলীয় জনপদ সোনাইমুড়ী। উপজেলা সদরে গড়ে উঠেছে ঐহিত্যবাহী বিদ্যাপীঠ সোনাইমুড়ী কলেজ। এক হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে কলেজটিতে। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক ব্যবসায় শিক্ষায় রয়েছে ৪৪০, মানবিকে ২৯০ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৯৬ জন শিক্ষার্থী। এবছর কলেজটিতে পাশের হার ছিল ৭৯.১৩। পাশাপাশি কলেজটিতে রয়েছে শ্রেণিকক্ষ ও অাবাসন সংকট। তবে আশার কথা হচ্ছে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজটি জাতীয় মেধায় অনন্য স্বাক্ষর রেখেছে। প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছর পর কলেজটিকে সরকারি করা হয়েছে। এতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেমনি খুশি হয়েছেন তেমনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক এবং স্থানীয়রা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। জানা যায়, স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের সমন্বিত উদ্যোগে ১৯৭০ সালে উপজেলার শিমুলিয়ার মৌজায় প্রায় ৩.০৮ একর ভূমির উপর কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে সোনাইমুড়ী বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকটি কক্ষে শ্রেণি কার্যক্রম চালু হয়। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে হাল ধরেছিলেন বোরহান উদ্দিন আহমেদ। বর্তমানে প্রশাসনকি ভবনসহ পাঁচটি ভবনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। রয়েছে বিশাল খেলার মাঠ ও  বড় পুকুর। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষসহ ২৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে দুই শিক্ষক পদ শূন্য। পাশাপাশি ১২ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন কলেজটিতে।  স্নাতক (সম্মান) কোর্স না থাকলেও বিবিএস, বিএসএস, উচ্চমাধ্যমিক মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা, বিজ্ঞান বিষয়ে নিয়মিত পাঠদান চলছে কলেজটিতে। প্রায় এক হাজার ৭৭৩ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে এই প্রতিষ্ঠানে। এর মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক ব্যবসায় শিক্ষায় রয়েছে ৪৪০, মানবিকে ২৯০ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ৯৬ জন শিক্ষার্থী।দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিতে স্নাতক কোর্স চালু না হওয়ায় উপজেলার মেধাবী শিক্ষার্থীরা জেলা সদরের সরকারি কলেজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে। পাশাপাশি এই কলেজে উপজেলার হত-দরিদ্র ছেলে-মেয়েরই অধ্যায়ন করছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল কিছুটা ভালো হয়েছে। এবার কলেজটিতে পাশের হার ছিল ৭৯.১৩। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৫০৭ জন। এর মধ্যে ৩৯৮ জন উত্তীর্ণ হলেও কোনো জিপিএ-৫ নেই। কলেজের শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, মূলত কলেজটিতে দরিদ্র পরিবারের ছেলে-মেয়েরা ভর্তি হয়। যাদের বেশির ভাগই কম মেধাবী। অক্লান্ত পরিশ্রমে তাদের দিয়েই আমরা ভালো ফল করার চেষ্টা করছি। যদিও অবকাঠামোগত সমস্যা প্রকট। বিশেষ করে শ্রেণি কক্ষের সংকট। ছাত্রবাস না থাকায় দূরের ছেলে-মেয়েরা এখানে ভর্তি হয় না। শিক্ষকদের আবাসন ব্যবস্থা নেই। এছাড়া নেই কোনো মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম।উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন, কলেজটি অনকে পুরানো। নানা সংকটের মধ্যেও ভালো ফল করছে শিক্ষার্থীরা। বিগত বছরগুলোতে আশানুরূপ ফল না হওয়ার পেছনে বিভিন্ন ব্যক্তি মহলের চাপে কম মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এতে করে খারাপ ফল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জাতীয়করণ হওয়ার ফলে সমস্যাটা কেটে গেল। আগামীতে আরো ভালো ফল হবে।অধ্যক্ষ এ কে এম শফিকুল ইসলাম বলেন, কলেজটিতে সমস্যার পাশাপাশি অনেক সম্ভাবনাও রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো মানের শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। পাশাপাশি স্নাতক কোর্স চালু হলে মেধাবী ছেলে-মেয়েরা আর দূরে যেতে হবে না। এছাড়া শিক্ষককেরা পাঠদানের ক্ষেত্রে আরো সচেতন হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনাইমুড়ী অন্ধ কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ফেনী কলেজ, নোয়াখালী কলেজ ও চৌমুহনী কলেজের পর সোনাইমুড়ী কলেজের অবস্থান। জাতীকরণের মধ্যে দিয়ে শিক্ষাবান্ধব সরকার একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে আগামীতে এই কলেজ থেকে আরো মেধাবী শিক্ষার্থী বের হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ফয়সাল বলেন, কলেজটি জাতীকরণের সিদ্ধান্ত একটি মাইলফলক। এর মধ্যে দিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীরা সরকারি কলেজে লেখাপড়া করতে পারবে। তাদের লেখাপড়ার মান আগের চেয়ে সমৃদ্ধ হবে।কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের বলেন, কলেজটিতে শিক্ষার মান যেমন বৃদ্ধি পাবে। তেমনি এখান থেকে যারা উত্তীর্ণ হয়ে বের হবে তাদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শিক্ষা সনদের মূল্যায়ন করা হবে। মিজানুর রহমান/এএম/এআরএস