মেঘনা নদীর বুক চিরে জেগে ওঠা একটি চরের নাম চরসোনামপুর। ভৌগোলিক দিক থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়নে এ চরটির অবস্থান। এক সময়ের অবহেলিত ও ঘনবসতিপূর্ণ এ চরটি এখন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছে। চরের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে চরসোনারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়টিতে আড়াইশো শিশু লেখাপড়া করছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় শত বছর পূর্বে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠে একটি চর। কালক্রমে এই চরের নাম হয়ে ওঠে চরসোনারামপুর। বর্তমানে এ চরটিতে প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস। এখানকার বাসিন্দাদের অধিকাংশই জেলে পেশার সঙ্গে যুক্ত। তবে এক সময়ের অবহেলিত এই চরের বাসিন্দারা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন অনেকটাই আধুনিক জীবনযাপন করছে। চরের প্রতিটি ঘরে এখন জ্বলে ওঠে সৌর বিদ্যুতের আলো। এছাড়াও ঘরে-ঘরে টেলিভিশন আর ডিশ অ্যান্টেনার মতো আধুনিক অনেক কিছুরই দেখা মিলে এ চরে। বিশাল এ চরের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে চরসোনারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে এ বিদ্যালয়টিতে ২৪৯ জন শিশু লেখাপড়া করছে। চরের বিদ্যালয়ে প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে অনেক শিক্ষার্থী মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও লেখাপড়া করছে বলে জানা গেছে।চরের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা হয় জাগোনিউজের এ প্রতিবেদকের। বয়োজ্যেষ্ঠ নির্মল চন্দ্র দাস বলেন, গ্রামের অধিকাংশ শিশুই নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে চরেই একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তিনি।আরেক বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমাদের চরে কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা আগের তুলনায় এখন অনেকটাই ভালো আছি। এক সময় অর্থের অভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়া করার সুযোগ পায়নি, এখন সরকারি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে আমাদের ছেলে-মেয়েরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠছে।চরসোনামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলে ও মেয়ে শিশু মিলিয়ে ২৪৯ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিদ্যালয়টিতে রয়েছে চারজন শিক্ষক। গত ২০১৩ সাল থেকে এ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিএসসি) অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের সঙ্গেই শতভাগ উত্তীর্ণ হয়ে আসছে। এবারের পিএসসি পরীক্ষায় চরের ৩১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে।চরসোনারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুসনে আরা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়ে শিশুদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মায়েদের সচেতন করার জন্য মা সমাবেশ এবং ওঠান বৈঠক করি। এছাড়া কোনো শিক্ষার্থী তিনদিনের অধিক অনুপস্থিত থাকলে তার বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করি।এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জাগো নিউজকে বলেন, চরের শিশুদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার শতভাগ নিশ্চিত ও ঝড়ে পড়া রোধ করার জন্য মিড-ডে মিল বা দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা চালু করার চেষ্টা চলছে। সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।এসএস/এবিএস