গাজীপুরে যানবাহনে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে বরখাস্তকৃত মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম এ মান্নান এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চার কাউন্সিলরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। গত ৫ জুলাই জয়দেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওই চার্জশিট গ্রহণের জন্য গাজীপুর আদালতের পরিদর্শকের নিকট পাঠিয়েছেন। এ ঘটনা জানাজানির পর গাজীপুরের আওয়ামী লীগ এবং সিটি কর্পোরেশনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় গাজীপুর চৌরাস্তায় চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নান তার ভাই আব্দুল কাদের, ভাতিজা ওয়াসিম, মান্নানের গাড়ির চালক হাবিবুল্লাহসহ ১০ জনকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা ও জয়দেবপুর থানা পুলিশ। রাতে এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদেরসহ বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং মেয়রের ভাতিজা, ভাগ্নেসহ ৪০ জনের নামে নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়।জয়দেবপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আহাদুল ইসলাম বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ২০/৩০জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।পরবর্তীতে জয়দেবপুর থানার এসআই হাফিজ উদ্দিন মামলাটি তদন্ত করে গত ৫ জুলাই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মোট ৫১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। ওই অভিযোগপত্রে মেয়র অধ্যাপক এমএ মান্নানকে প্রধান আসামি, তার ভাই আব্দুল কাদের, ভাতিজা এসএম ওয়াসিম, গাড়ির চালক হাবিবুল্লাহ, বিএনপি সমর্থিত ১৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তানভীর আহম্মেদ, ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, ৫৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউদ্দিন, ৫৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মো. আলেক, ৩১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রফিকুজ্জামান, ২৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান আজমল ভূইয়া, ২৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান মিয়া হান্নু, ১৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ সরকার, ৪২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান উদ্দিন, ২৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহবুবুর রশিদ খান, সংরক্ষিত ৩নং আসনের কাউন্সিলর শিরিন চাকলাদার এবং আওয়ামীলীগ সমর্থিত ৪৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম, ৫৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন সরকার, ১১নং ওয়ার্ডের আজাহারুল ইসলাম মোল্লা ও সংরক্ষিত আসনের ১১নং ওয়ার্ডের সালেমা আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠিয়ে দেন। ২ আগস্ট গাজীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওই চার্জশিট পেয়ে শুনানির জন্য ১৬ অক্টোবর ধার্য করেন। এ ব্যাপারে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আজমত উল্লাহ খান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। নাশকতার সঙ্গে তারা জড়িত এটা সঠিক না। মামলায় কাউন্সিলরদের পলাতক দেখানো হলেও তারা সবাই সিটি কর্পোরেশনের সব রকম কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলরগণ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহদাতবার্ষিকী এবং জঙ্গিবাদ বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরব অংশগ্রহণ করেন। আমিনুল ইসলাম/এআরএ/এবিএস