ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মাদারীপুরের ৪ উপজেলার ৫০ গ্রামের হযরত সুরেশ্বরী (রা.) এর অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আজ (সোমবার) ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। এদিকে, চাঁদপুরের ৪০ গ্রামেও ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।স্থানীয়রা জানায়, আজ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬৯টি দেশ ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। তাই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রা.) এর অনুসারীরা সোমবার ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। যে সকল স্থানে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে- মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা, জাজিরা, মহিষেরচর, জাফরাবাদ, চরকালিকাপুর, তাল্লুক, বাহেরচরকাতলা, চরগোবিন্দপুর, আউলিয়াপুর, ছিলারচর, কুনিয়া, মস্তফাপুর, কালকিনির সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, আলীনগর, বাঁশগাড়ী, খাসেরহাট, আউলিয়াপুর, রামারপোল, ছবিপুর, ছিলিমপুর, ক্রোকিরচর, সিডিখান, কয়ারিয়া, রমজানপুর, বাটামারা, রাজারচর। শিবচরের পাচ্চর, স্বর্ণকারপট্রিসহ মাদারীপুর জেলার চারটি উপজেলার ৫০ গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ ঈদুল আযহা উদযাপন করছেন। সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের প্রধান গদীনশীন পীর আলহাজ্ব খাজা শাহ্ সূফী সৈয়্যেদ নূরে আক্তার হোসাইন জানান, রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) পবিত্র মক্কা শরীফে হজ ব্রত পালিত হয়। আজ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬৯টি দেশ ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। এর ফলে মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলাসহ বাংলাদেশের প্রায় দেড় কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান আজ ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ ও কালকিনির আন্ডারচর খানকা শরীফ মাঠে সকাল ১০ টায় ঈদের বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। চরকালিকাপুর ঈদের জামাতে ঈমামতি করবেন মাস্টার আবুল হাসেম মিয়া ও আন্ডারচর খানকা শরীফ মাঠের ঈদের জামাতে ঈমামতি করেন মাওলানা মোকসেদ আলী মিয়া। এ সকল গ্রামের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে ঈদের আনন্দ।মাদারীপুর সদর উপজেলার চরকালিকাপুর গ্রামের মো হাশেম মাস্টার জানান, সুরেশ্বর দ্বায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রা.) এর মাদারীপুরের অনুসারীরা এক শত বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। সুরেশ্বর পীরের ভক্তদের মতে, ইসলাম ধর্মের সবকিছুই মক্কা শরীফ হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। তাছাড়া মক্কা শরীফ থেকে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘণ্টা। তাই মক্কাবাসীসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানরা যেদিন রোজা রাখেন তারাও সেদিন থেকে রোজা করে থাকেন। তারা মনে করেন, ৩ ঘণ্টা সময়ের পার্থক্যের জন্য ২৪ ঘণ্টা পার্থক্য মানা যুক্তিযুক্ত নয়। উল্লেখ্য, সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রাঃ) এর অনুসারীরা ১৪৫ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।নাসিরুল হক/এসএস/এমএস