দেশজুড়ে

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার অভিযোগ

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর বিরুদ্ধে রাইগাঁ ইউনিয়নের কাদিয়াল নাউরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিল্পী রানী মৈত্রকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষকের পরিবারকে চেয়ারম্যানের লোকজন বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও জানা গেছে। লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষক শিল্পী রানী মৈত্র জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর গোপন ভোটের মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ের ১১ সদস্য বিশিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে তিন ভোটের ব্যবধানে সাত ভোট পেয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন উজ্জল।অপরদিকে রাইগাঁ ইউনিয়ন পরিষদ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর মনোনিত প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক চার ভোট পেয়ে পরাজিত হয়। এরপর থেকে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল চেয়ারম্যানসহ তার লোকজন। এরই জের ধরে ঈদের আগের দিন গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মঞ্জুরুল আলমসহ খলসাকুড়ি গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে আবু মুসা রাইগাঁ বাজারে অবস্থিত রওশন মেডিকেল স্টোরের সামনে তার পথরোধ করে এলোপাথাড়ি মারধর ও চড়থাপ্পড় মারে। এসময় তার স্বামী ও শাশুড়ী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে স্বামী মন্টুকেও মারধর করে এবং তাদের প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে চলে যায়। একইসঙ্গে কোনো মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে চেয়ারম্যানের লোকজন হুমকি দিয়ে আসছে। এতে পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান এ শিক্ষক।তিনি আরও জানান, ঘটনার দিনই থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়। কিন্তু অনেকবার থানায় গেলেও মামলা না নিয়ে পুলিশ বিভিন্নভাবে তালবাহানা করে। এমনকি বিষয়টি মিমাংসা করার পরামর্শ দেন।বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উজ্জ্বল বলেন, চেয়রাম্যানের প্রার্থী ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় প্রধান শিক্ষক শিল্পী রানী মৈত্রকে মারপিট করেছেন।তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে রাইগাঁ ইউপির চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু বলেন, এটি একটি সাজানো ঘটনা। তার বিরুদ্ধে একটি মহল বিভিন্নভাবে গুজব রটাচ্ছেন। মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছে মাত্র। তবে প্রধান শিক্ষকের স্বামী মন্টু আমার এক ছেলেকে মেরেছে। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাবের রেজা বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ না নিয়ে আসায় মামলা নিতে বিলম্ব হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল ৫টায় ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে।মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেবুন নাহার ঘটনাটি শুনেছেন ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।আব্বাস আলী/এফএ/এমএস