কক্সবাজার সৈকত দখল ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে করা মামলায় পরিবেশ অধিদফতরের দেয়া চার্জশিট বাতিল করে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে বাদ দেয়া মূল অভিযুক্ত হোটেল সি-ক্রাউন ও ফকির গ্রুপের মালিককে অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত চার্জশিট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। রোববার মামলার বাদী ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল মামুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ আদালতের বিশেষ পিপি মো. সাইফুল ইসলাম।মামলায় বাদী পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন পরিবেশ আদালতের বিশেষ পিপি মো. সাইফুল ইসলাম ও মাহফুজুল মুনির।জানা যায়, কক্সবাজার সৈকত দখল ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে করা মামলায় ৬ প্রতিষ্ঠানের ৮ জনের বিরুদ্ধে গত ১১ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দেয় পরিবেশ অধিদফতর। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলামের দেয়া এই প্রতিবেদনে হোটেল সি-ক্রাউন ও ফকির গ্রুপের মালিকদের বাদ দেয়া হয়। একই সঙ্গে আসামিদের নিজস্ব লোকজনকে মামলার সাক্ষী হিসাবে নাম দেয়া হয়েছে। অথচ তাদের চেনেননা মামলার বাদী।যাদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তারা হলেন, ফকির গ্রুপের কর্মচারী কলাতলীর বাসিন্দা নাজির হোসেনের ছেলে কামাল, সি-ওয়েব বর্তমানে এস্টেটিক প্রপার্টিজের পরিচালক ঢাকা মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকার মো. আব্দুল করিম শেখের ছেলে কামরুল হাসান, হোম স্টোন প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলম ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ডালিয়া আলম, হোটেল বে-প্যারাডাইসের মালিক ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল আমিন শানু, ক্রাউন প্যাসিফিক বিচ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মালিক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মেটাল প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক ঢাকা নর্থ গুলশানের বিপিএল টাওয়ায়ের বাসিন্দা মৃত জামিল উদ্দিন আহমেদের ছেলে ইঞ্জিনিয়ার সাদিক জামিল এবং একই এলাকার প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেডের মালিক মোবাশ্বির উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ইসিএ এলাকায় সাগর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সৈকত দখল করে বহুতল ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক নির্মাণের অভিযোগে ৪ ডেভেলপার কোম্পানিসহ ৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০১১ সালের ১৫ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলাটি করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস) কক্সবাজারের সভাপতি এম. ইব্রাহিম খলিল মামুন।মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, ডেভেলপার কোম্পানি ফকির গ্রুপ, সি-ওয়েভ, হোম স্টোনের টাইটানিক ইরা (বর্তমান হোটেল সি প্রিন্সেস) ও কক্স টাইটানিক, ডেসটিনি গ্রপের ক্রাউন প্যাসিফিক, হোটেল সি-ক্রাউন ও হোটেল বে-প্যারাডাইস। আদালতের নির্দেশে পরিবেশ অধিদফতর থেকে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার কার্যালয়ের তৎকালীন পরিদর্শক সাইফুল আশ্রাবকে। তিনি একই বছর ১৩ সেপ্টেম্বর মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা চেয়ে চট্টগ্রাম পরিবেশ আদালতে একটি আবেদনও করেন।কিন্তু পরিদর্শক সাইফুল আশ্রাব ঢাকায় বদলি হয়ে যাওয়ার পরে পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলামকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেন। গত ১১ এপ্রিল কক্সবাজার সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।মামলার বাদী ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির সভাপতি এম. ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে মূল অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে এবং আসামিদের নিজস্ব লোকজনকে সাক্ষী বানিয়ে আদালতে চার্জশিট দিয়েছেন। তাই এ চার্জশিট বাতিল করে বাদ দেয়া অভিযুক্তদের অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় চার্জশিট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।সায়ীদ আলমগীর/এএম/এবিএস