দেশজুড়ে

অপারেশন টেবিলে প্রসূতির মৃত্যু

নওগাঁর মান্দায় অনুমোদনহীন একটি ক্লিনিকে সিজারিয়ানের সময় অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে নার্গিস আক্তার (২৪) নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সেবিকা ও আয়াকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত ১১টার দিকে চৌবাড়িয়া বাজারের অনন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার সকালে এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।  পুলিশ ঘটনাস্থল পৌছে পরিস্থিতি নিয়স্ত্রণসহ ক্লিনিকের সেবিকা সালমা সুলতানা ও আয়া নাজনীনকে আটক ও নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, সিজারিয়ানের জন্য রোববার বিকেলে নার্গিসকে চৌবাড়িয়া বাজারের অনন ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। রাত ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কর্তব্যরত চিকিৎসক ও তার দুই সহযোগীসহ ক্লিনিক মালিক কৌশলে সরে পড়েন। পরে ক্লিনিকের সেবিকা সালমা সুলতানা ও আয়া নাজনীন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের একটি কক্ষে আটক করে রাখে নিহতের স্বজনরা। আটক সেবিকা সালমা সুলতানা বলেন, মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত চিকিৎসক সারোয়ার আলম স্বরূপ নার্গিসের অপারেশন করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে প্রসূতির অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাকে অপারেশন টেবিলেই ফেলে রেখে ডাক্তারসহ অন্যরা পালিয়ে যান। সেখানেই নার্গিসের মৃত্যু হয়। নাচোল জননী ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার মজিবুর রহমান জানান, জামিলুর রহমান জননী ক্লিনিকে পার্টটাইম কাজ করেন। এছাড়া ডাক্তার সারোয়ারের সহযোগী হিসেবেও কাজ করেন তিনি। চিকিৎসা বিষয়ে জামিলুরের কোনো সনদ রয়েছে কি না এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি।  সংবাদ পেয়ে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফরিদ উজ জামান ও মেডিকেল কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, অ্যান্সেথেসিয়া জনিত ক্রটি ও অপারেশন থিয়েটারের অব্যবস্থপনার কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে চিকিৎসক সারোয়ার আলম স্বরূপ সেল ফোনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।  মান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সেবিকা ও আয়াকে আটক করা হয়েছে। প্রসূতি নিহতের ঘটনায় নিহতের ভাই আব্দুর রাজ্জাক থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আটকদের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলেও জানান ওসি মোজাফফর হোসেন। আব্বাস আলী/এএম/এবিএস