বিশ্বে পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় খাত। কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত মানুষ পর্যটনে আকর্শিত হওয়ায় ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করেছে সরকার। পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকতকে ঘিরে পর্যটনের অবারিত সম্ভাবনার গন্তব্য কক্সবাজার। এর উন্নয়নে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে ২০১১ সালে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) গঠন করে সরকার।চলতি বছরের ১১ আগস্ট এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমেদ। ১৭ আগস্ট তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। আজ (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন জাগো নিউজর সঙ্গে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জাগো নিউজের কক্সবাজার প্রতিনিধি সায়ীদ আলমগীর।জাগো নিউজ : কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে পর্যটনের উন্নয়নে কোন কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেবেন?কউক চেয়ারম্যান : বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতকে কাজে লাগিয়ে কক্সবাজারকে আকর্ষণীয় পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ার সুযোগ রয়েছে আমাদের। এটি গড়তে হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন আবশ্যক। তা বাস্তবায়ন করতেই প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছেন। প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে আমার দায়িত্ব থাকবে, ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক রেখে পর্যটন শিল্প বিকাশে করণীয় সবকিছু সম্পাদন করা। এছাড়া পর্যটন অঞ্চলের অবকাঠামো ও স্থাপনাসমূহ দৃষ্টিনন্দিত করা বাঞ্ছনীয়। এটা নিশ্চিত করতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। অগ্রাধিকার ভিক্তিতে প্রথমে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জলাবদ্ধতা নিরসন ও যানজট মুক্ত করা, অভ্যন্তরীণ যোগযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে।জাগো নিউজ : অপরিকল্পিত বিল্ডিংয়ের ঘিঞ্জি শহরে পরিণত হয়েছে কক্সবাজার। এটি নিরসনে আপনার পরিকল্পনা কী?কউক চেয়ারম্যান : প্রশাসনিক সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকায় অতীতে কক্সবাজারে যে যার মতো অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে তুলেছে। এতে পর্যটনের সৌন্দর্য বিনষ্টের পাশাপাশি অনেকটা উন্নতমানের বস্তিতে রূপ নিতে চলেছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। এটি বন্ধ করে পর্যটনের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ভূমির উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত নগরায়ন বন্ধ করে অনুমোদনহীন স্থাপনা জরুরি ভিত্তিতে অপসারণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। তার আগে একটি ‘মাস্টারপ্লান’ তৈরি করে ইতোমধ্যে গড়ে ওঠা ভবনগুলো নিয়মের মধ্যে এনে পরিকল্পনা মতো নতুন স্থাপনাগুলো গড়ে তোলা হবে। তবে এ জন্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সবস্থরের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।জাগো নিউজ : কক্সবাজার শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে কী কী প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে?কউক চেয়ারম্যান : কক্সবাজারের মূল সৌন্দর্য সবুজ পাহাড় আর নীল সাগরের মিতালি। কিন্তু একশ্রেণির মানুষ নিজ স্বার্থ হাসিলে পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট করছে। আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষত রেখে শহরের লিংক রোড় থেকে কলাতলী হয়ে হলিডে মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুপাশে বিভিন্ন প্রজাতির সৌন্দর্যবর্ধনকারী বনায়ন সৃজন করা হবে। কলাতলী মোড় থেকে সৈকতের বালিয়াড়ি পর্যন্ত সৌন্দর্যবর্ধনকারী রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। রাস্তার এক পাশে থাকবে ‘ওয়াই ফাই জোন’। সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট থেকে শৈবাল পয়েন্ট পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে পরিবেশ ও পর্যটনবান্ধব মেরিন ড্রাইভ সড়ক।জাগো নিউজ : কক্সবাজারে পর্যটকদের দীর্ঘ সময় অবস্থান নিশ্চিত করতে বিনোদনের কী কী প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন?কউক চেয়ারম্যান : অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বদিচ্ছা না থাকায় সৈকতের ঢেউ আর বালিয়াড়ি ছাড়া পর্যটন-বিনোদনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। যার জন্য পর্যটকরা কক্সবাজার এসে এক দিনের বেশি থাকার আগ্রহ পান না। তাই পর্যটকদের কথা চিন্তা করে পর্যটন-বিনোদনে অ্যাকোরিয়াম, হিমছড়ি এলাকায় ক্যাবল কার, বিনোদনের লাইট অ্যান্ড সাউন্ড প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এটি পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়নে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। স্থানীয়ভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান এসব বিনোদন প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে চাইলে নিয়মের ভেতর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হবে।জাগো নিউজ : সৈকত এলাকায় দখল-বেদখলের কারণে পর্যটন এলাকা সংকুচিত ও পরিবেশের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে এ ব্যাপারে আপনার করণীয় কী?কউক চেয়ারম্যান : অতীতে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কয়েকটি রাজনৈতিক দল পর্যটন শহর কক্সবাজারের সৌন্দর্য বৃদ্ধির চেষ্টা না করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সৈকত তীরের সরকারি ভূমি প্লট আকারে নামে বেনামে ভাগ করে নেয়। তখন থেকেই সৈকত এলাকায় দখল প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পর্যটন শিল্পের বিকাশে বেদখলে যাওয়া সরকারি জমিগুলো উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে। এটি বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। পর্যটন এলাকায় সরকারি জমির অবৈধ দখলদার যে দলেরই হউক কেন ছাড় দেয়া হবে না। আইন যা বলে তার ভিত্তিতেই কাজ করবে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। কক্সবাজার হচ্ছে একটা অমিত সম্ভাবনার আঁধার। সম্ভাবনাগুলোকে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করছি।জাগো নিউজ : আপনাকে ধন্যবাদকউক চেয়ারম্যান : জাগো নিউজকেও ধন্যবাদ।সায়ীদ আলমগীর/বিএ