যশোরের শার্শায় ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংটু ও শার্শা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌসীর স্বামী শাহাজান আলমের সংঘর্ষের কারণে ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডে কার্ড বিতরণ করা হয়নি। বর্তমানে চালের কার্ড বিতরণ নিয়ে ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে চেয়ারম্যান গ্রুপ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।জানা গেছে, ২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১০ টাকা কেজিতে চালের কার্ড বিতরণের দিন ধার্য ছিল। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিলারের মাধ্যমে ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান মনোনীত হতদরীদ্রদের মাঝে ৪ কপি ছবি ও ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি যুক্ত কার্ডের মাধ্যমে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। কায়বা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ডের ডিলার নিযুক্ত হন শার্শা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌসীর স্বামী শাহাজান আলম। বুধবার চালের কার্ড বিতরণের দিন ডিলার শাহাজান আলম ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কাছে চাল বিতরণকারীদের নামের তালিকা ও কার্ড চাইলে চেয়ারম্যান বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছবি তুলে কার্ড তৈরি করে নিতে বলে। এ সময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে ডিলার শাহাজান আলমের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চেয়ারম্যান টিংকু ডিলার শাহাজানের সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় তাকে মারধর করা হয়। পরে চেয়ারম্যান গ্রাম পুলিশ দিয়ে ডিলার শাহাজান আলমকে ৫ ঘণ্টা আটকে রাখে। এক পর্যায়ে শার্শা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান আটক শাহাজান আলমকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার কারণে কায়বার ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির কার্ড বিতরণ করা হয়নি।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আলেয়া ফেরদৌসি জানান, চেয়ারম্যান টিংকু পরিষদে বসতে না বসতে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। তার কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির কার্ড বিতরণ সম্ভব হয়নি। চেয়ারম্যান ডিলার শাহাজান আলম এর সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের ৩টি ওয়ার্ডে চাল বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানান।এ ব্যাপারে কায়বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহম্মেদ টিংকু বলেন, শার্শা খাদ্য কর্মকর্তা ডিলার শাহাজান আলমের কার্ড বন্ধ করে রেখেছে। এর জের ধরে শাহাজান ও তার ছেলে সম্রাট কাউন্সিলে এসে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় তাদেরকে আটকে রাখা হয়েছিল। একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক কারণে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।জামাল হোসেন/এফএ/এবিএস