দেশজুড়ে

সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে মৃত্যু

মাতামুহুরী ও বমুখালের খরস্রোতে গড়ে ওঠা বিলছড়ি একটি প্রাচীন জনপদ। এলাকাটি চকরিয়া উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী হওয়ায় বরাবরই স্বাভাবিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। নেই কোনো সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক। এ সুযোগে চড়া সুদের ব্যবসা খুলে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেছে এলাকার কিছু সুদি মহাজনরা। এমনি এক সুদখোর মহাজনের খপ্পরে পড়ে ঋণের টাকা সুদাসলে ফেরত দিতে না পারায় জীবন দিতে হল বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড পাইন্ন্যাসা বিল হাজাম পাড়ার মনজুর আলমকে(৫০)। এমন অভিযোগ করেছেন নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা। তিনি ইউনিয়নের হাজামপাড়ার মৃত জাকের হোসেনের ছেলে। মনজুর আলমের স্ত্রী রাবেয়া বেগম (৪৫) বলেন, ৪ বছর আগে আমার স্বামী মনজুর আলম পার্শ্ববর্তী ৪ নং ওয়ার্ড নয়াপাড়া এলাকার শৈল চিকিৎসক নুর আহাম্মদের ছেলে সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সায়েম মিয়ার কাছ থেকে সুদে ১ লাখ টাকা নেন। ১ লাখ টাকার বিপরীতে সায়েম মিয়া মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা দাবি করেন। ইতোমধ্যে ২ দফায় ৪০ হাজার টাকা করে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন আমার স্বামী। সময় মতো টাকা দিতে না পেরে সুদি মহাজন সায়েম মিয়ার ভয়ে ৪ বছর আগে আমার স্বামী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার টাকার জন্য আমাকে গালমন্দ করে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। পাশাপাশি পরিবারের লোকজনকে পথে ঘাটে অপমান করছেন। এসব চাপাচাপির টেনশনে আমি নিজে অজ্ঞান হয়ে পড়ি। আমার অসুস্থতার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ভোর ৩টায় হার্ট অ্যাটাকে চট্টগ্রামে আমার স্বামী মনজুর মারা যায়। মনজুরের বড় ছেলে নাছির উদ্দিন জানান, আমার বাবার মৃত্যুর জন্য সুদখোর মহাজন সাইফুল ইসলাম প্রকাশ সায়েম মিয়া দায়ী। শুনেছি ঋণের টাকার জন্য খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সায়েম মিয়া সেই কাগজে আমাদের ভিটা বাড়ি তার নামে লিখে নিয়েছে। বাবা টাকা দিতে না পারায় আমাকে নামমাত্র বেতনে ৩ বছর তার বাড়িতে কাজের লোক হিসেবে শ্রম দিতে বাধ্য করেছে। তারা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারি না। স্থানীয়রা আরো জানায়, মহাজন সায়েম মিয়ার সুদের `জালে বন্দি` হয়ে ইতোমধ্যে আরো অনেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের মাঝে বমুবিলছড়ির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাইন্ন্যাসা বিল এলাকার মৃত ঠান্ডা মিয়ার ছেলে মো. হোসেন (৩৫), মৃত আলী আকবরের ছেলে নুরুল আমিন (৩৬) অন্যতম। এছাড়া তার সুদের টাকার চাপে পড়ে পার্শ্ববর্তী ৪ নং ওয়ার্ড মৌলভীপাড়া এলাকার মৃত মো.আলীর ছেলে কবির হোসেন (৪০) ৪ বছর আগে বিষপানে আত্মহত্যা করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সায়েম মিয়া বলেন, এলাকার মানুষ অভাবে পড়লে আমি টাকা ধার দেই। কেউ খুশি হয়ে কিছু লাভ দিলে আমি নেই। কাউকে চাপাচাপি করিনা।সায়ীদ আলমগীর/এসএস/এমএস