ঢাকা বিভাগ ভেঙে নতুন আরও দুটি বিভাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রস্তাবিত নতুন বিভাগ ময়মনসিংহের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে টাঙ্গাইল- এমন আশঙ্কা থেকে আগেই সোচ্চার হয়ে উঠেছেন টাঙ্গাইলবাসী। ময়মনসিংহ নয়, ঢাকা বিভাগের সঙ্গেই থাকতে চায় এই জেলার মানুষ।প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিন কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়, প্রস্তাবিত ময়মনসিংহ বিভাগ গঠিত হলে টাঙ্গাইল তার অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু টাঙ্গাইলবাসীর দাবি, তাদের যেন ঢাকা বিভাগ থেকে বিচ্ছিন্ন করা না হয়। সরকারের প্রতি এই দাবিতে সুধী সমাবেশ, গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক অবরোধ, লিফলেট বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে জেলার সর্বস্তরের জনগণ। আন্দোলন বেগবান করতে গঠন করা হয়েছে ‘টাঙ্গাইলকে ঢাকা বিভাগেই রাখার দাবি বাস্তবায়ন কমিটি’।এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শনিবার ১০ মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো টাঙ্গাইল জেলা। সকাল ১১টা থেকে ১১টা ১০মিনিট পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, দোকানপাট থেকে শুরু করে যে যেখানে ছিল সেখানেই ১০ মিনিট স্তব্ধ হয়ে ছিল টাঙ্গাইলের প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। সকালে এ উপলক্ষ্যে শহরের নিরালা মোড়ের স্থানীয় শহীদ মিনারের সামনে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার টাঙ্গাইলবাসী অংশ নেয় । মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল সদর-৫ আসনের সাংসদ আলহাজ ছানোয়ার হোসেন, টাঙ্গাইলকে ঢাকা বিভাগে রাখার দাবি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুল রহমান খান ফারুক, কমিটির সদস্য সচিব ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জাফর আহমেদ প্রমুখ।এদিকে জেলাব্যাপী এই কর্মসূচির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত ও টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের শহর থেকে মধুপুর-ধনবাড়ী পর্যন্ত সড়কের দুপাশে কয়েক লাখ মানুষ দাঁড়িয়ে এই আন্দোলনের সাথে একাত্বতা জানান। এসময় ১০ মিনিটের জন্য এই সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।উলেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলা নিয়ে ময়মনসিংহকে বিভাগ করার ঘোষণা দেন। তারপর থেকেই ঢাকা বিভাগে থাকার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ।বিএ/আরআইপি