অতিরিক্ত পানি বেড়ে কাপ্তাই লেকে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শহরসহ রাঙামাটির অন্তত ২০ হাজার মানুষ। বর্তমানে চরম ভোগান্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করছে দুর্গতরা।প্লাবিত মানুষের ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রকৃত তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলাসহ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করে।এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, কাপ্তাই লেকে নির্ধারিত সীমার নিচে বাড়িঘর বা স্থাপনা তৈরিসহ বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লেকের লেভেল সীমার উচ্চতা সর্বোচ্চ ১২০ ফুট। কিন্তু শহরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অনেকে এ সীমারেখার নিচে লেক সংলগ্ন এলাকায় বাড়িঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছেন।প্রতি বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই লেকে পানি বাড়লে সেসব নিম্ন লেভেলে বসবাসকারীরা পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়ে। এবারও একই দুর্দশার কবলে পড়েছে তারা। কবলিত লোকজনের ভোগান্তি সরাতে লেকের অতিরিক্ত পানি কমানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ক্ষতিপূরণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার বলেন, জেলায় পানিবন্দি লোকজনের সঠিক সংখ্যা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে নিজ নিজ এলাকায় ডুবে যাওয়া প্রকৃত পরিবার ও ঘরবাড়ির তালিকা প্রণয়ন করে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা, ইউপি চেয়ারম্যান ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। তালিকা পেলে ক্ষতিপূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, কাপ্তাই লেকে পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। শুধু রাঙামাটি পৌর এলাকায় প্রকৃত পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১০ হাজার বলে জানান ১ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর আবদুল করিম। এছাড়া, সদর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নসহ বাঘাইছড়ি, বরকল, লংগদু, নানিয়ারচর, কাপ্তাই, বিলাইছড়ি ও জুরাছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিম্ন এলাকায় আরও প্রায় ১০ হাজারের অধিক পরিবারের লোকজন পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।ইতোমধ্যে রাঙামাটি পৌর এলাকার শান্তিনগর, মুসলিমপাড়া, ফিশারি বাঁধ এলাকা, এসপি অফিস সংলগ্ন এলাকা, গর্জতলী, আলম ডক, তবলছড়ি, আসামবস্তি, মাঝের বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শন করে দুর্গত লোকজনের খোঁজখবর নিয়েছেন পৌরসভা মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী।তিনি বলেন, কাপ্তাই লেক সংলগ্ন ১১০ ফুট উপর থেকে ১২০ ফুট লেভেলের মধ্যে যারা বাড়িঘর করে বসবাস করছেন তাদের সরিয়ে অন্যত্র পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা চলছে। পরে জেলা প্রশাসনের পরামর্শে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অপরদিকে, সদ্য বর্ষণে উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ লেকে অতিরিক্ত পানি বেড়ে যায়। পানির চাপ কমাতে কাপ্তাই বাঁধের স্প্রিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে দিয়ে পানি ছাড়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ। সুশীল প্রসাদ চাকমা/এফএ/পিআর