দেশজুড়ে

সাতক্ষীরায় আটক দুই পুলিশ সদস্যকে নিয়ে রাতভর নাটকীয়তা

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকার সেনপুর বাজার থেকে আটক হয়েছেন স্বর্ণ চোরাচালানি বিপ্লব চ্যাটার্জি। এ সময় জনরোষ থেকে উদ্ধার করা হয় পুলিশের এএসআই আব্দুর রউফ পল্টু ও কনস্টেবল মারুফকে।শুক্রবার রাতে এই তিনজনকে আটক করে পাটকেলঘাটা থানায় নিয়ে আসা হয়। স্বর্ণ চোরাচালানি বিপ্লব চ্যাটার্জি বাগেরহাট জেলার ভাটপাড়া গ্রামের সুধীর চ্যাটার্জির ছেলে। এএসআই রবিউল ইসলাম পল্টু পাটকেলঘাটা থানার কদমপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে ঝিনাইদদের হরিণাকুণ্ডু থানায় কর্মরত। কনস্টেবল মারুফ তার সহযোগী। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি পক্ষ মরিয়া। থানায় চলে রাতভোর নানা নাটকীয়তা। এমনকি কোনো তথ্য নেওয়ার জন্য সাংবাদিকদের থানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বর্ণ চোরাচালানি বিপ্লব জানিয়েছে, তার কাছে স্বর্ণের দুটি বার ছিল। যার ওজন এক কেজি। কিন্তু স্বর্ণের বার দুটি কোথায় সেটি নিশ্চিত করতে পারেনি। এ বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল ইসলাম। শনিবার দুপুরে জাগো নিউজকে তিনি জানান, ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে পাটকেলঘাটা থানার এএসআই মুরাদকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আটক করা হয় তিনজনকে। ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামি করা হয়েছে বিপ্লব চ্যাটার্জিকে। অন্যদিকে ঘটনায় জড়িত এএসআই ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে স্বর্ণ উদ্ধার হয়নি। সেনপুর বাজার এলাকার সোহাগ হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে বাজারে আসেন তিন আরোহী। এদের মধ্যে একজন বাঁচান বাঁচান বলে চিৎকার করে। এসময় বাজারের মানুষ দুজনকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। পরবর্তীতে থানায় খবর দিলে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিপ্লব চ্যাটার্জি স্বর্ণের পাচারের উদ্দেশ্যে খুলনার জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে বাসে উঠছিলেন। এ সময় এএসআই আবদুর রউফ পল্টু ও কনস্টেবল মারুফ নিজেদের গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে বাস থেকে নামিয়ে নেন। পরে সেখান থেকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকায় আসেন ও কুমিরা ইউনিয়নের সেনপুর বাজারের দিকে নিয়ে যান। এ সময় বিপ্লব বাঁচান বাঁচান বলে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা তাদের গণধোলাই দেয়। আকরামুল ইসলাম/এমএএস/আরআইপি