দেশজুড়ে

সীমানা পেরিয়ে উৎসবে মেতেছে দুই বাংলা

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার শেষ দিন মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বির্সজনকে ঘিরে দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। দু’দেশের সীমানা পেরিয়ে জল সীমার মধ্যে উৎসবের আমেজে মেতেছে দুই বাংলা। নদী তার চির চেনা বৈশিষ্টের দেয়াল ভেঙে দুই বাংলার মানুষকে একত্রিত করে পরিণত করেছে মিলন মেলায়।জানা যায়, ১৮৬৮ সাল থেকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্তের ইছামতি নদীতে দুর্গোৎসবকে ঘিরে শুরু হয় এই মেলার। ভারতীয় সীমানা টাকি ও বাংলাদেশ সীমানা দেবহাটার টাউন শ্রীপুর।নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত সরকারের নির্দেশে ২০১৩ সাল থেকে বন্ধ থাকে মেলাটি। তবে তিন বছর পর এবছর নিজ নিজ জল সীমার মধ্যে থেকে বসে এই মিলন মেলা। মঙ্গলবার বেলা ৩টা থেকে শুরু হয় মেলাটি। চলে রাত ১০টা পর্যন্ত। এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগ থেকে জানিয়ে দেয়া হয় দু’দেশের সরকারের নির্দেশে আন্তর্জাতিক সীমারেখা পার হয়ে দু’দেশের লোক যাতায়াত করতে পারবেন না। ফলে ইসামতি নদীতে মিলন মেলাটি অনুষ্ঠিত হলেও আন্তজার্তিক সীমানা অতিক্রম করতে পারেনি কেউ। এনিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয় দর্শনার্থী ও আয়োজকদের মধ্যে। দেবহাটা টাউনশ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের আবু বক্কর গাজী জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তিন বছর বন্ধ থাকার পর এবছর মেলাটি শুরু হলেও মেলার পূর্ণতা পায়নি। স্থানীয় সুনীল দেবনাথ জানান, মেলায় আগের মতো আর আনন্দ হয়নি। এপারের মানুষ ওপারে যেতে আর ওপারের মানুষ এপারে আসতে পারেনি। দেবহাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন-অর-রশীদ জাগো নিউজকে বলেন, বিজয় দশমীতে দুই দেশের সীমানায় বিজয় বিসর্জন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এ ব্যাপারে আগে থেকেই নির্দেশনা ছিল। কেউ কারো সীমানা অতিক্রম করতে পারবে না। যে যার সীমানায় বিজয় বিসর্জন করবে। নিরাপত্তায় ছিল বিজিবি, বিএসএফ ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।মেলাকে ঘিরে আর্ন্তজাতিক সীমানা মুছে দুই বাংলার মানুষ কিছুক্ষণের জন্য হলেও প্রতিমা বির্সজনকে ঘিরে উৎসবে মাতে। দুই দেশের সরকারের সমঝোতায় আগের মতো প্রাণ ফিরে পাবে মেলাটি এমন দাবি স্থানীয়দের।আকরামুল ইসলাম/এএম /এবিএস