দেশজুড়ে

সরব সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা

এখনো তফসিল এবং জেলা পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত না হলেও শেরপুরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সরব হয়ে উঠেছেন। শহরের বিভিন্ন স্থানে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থকদের শুভেচ্ছামূলক অভিনন্দন বাণী দিয়ে ফেস্টুন শোভা পাচ্ছে। এমনকি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে ‘দেখতে চাই’ তোরণেও তোরণ নির্মাণ করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে শুভাকাঙ্খীদের সরব প্রচারণা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ফেসবুকেও চলছে প্রচার-প্রচারণা। সেই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক ও সুধী মহলে নানা আলোচনা চলছে। চেয়ারম্যান পদ ছাড়াও সদস্য পদেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমে পড়েছেন। দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে তাদের সমর্থন কামনা করছেন।শেরপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রকাশ্যে তোরণ নির্মাণ ও ব্যানার-ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিয়েছেন দুইজন। এরা হলেন-জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল। জেলা আওয়ামী লীগের শহরে বসবাসকারী নেতাদের এক সভায় দলীয় প্রার্থী হিসেবেও চন্দন পালের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।গত আগস্টের ওই সভার পর থেকেই তার প্রতি সমর্থন জানিয়ে জেলা আওয়ামী ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীরা তোরণ নির্মাণ, ফেস্টুন টানিয়ে ফেসবুকে নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এমনকি দলীয় পদ-পদবীর বাইরে কয়েকজন ব্যবসায়ীও তার পক্ষে তোরণ বানিয়ে সমর্থন চেয়েছেন যেটি স্থানীয়ভাবে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে, আ.লীগ নেতা চন্দন পালের প্রার্থিতা ঘোষণার কয়েকদিন পরই সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের এক মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে জনস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পিডি প্রকৌশলী মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব আলম মঞ্জু আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে প্রার্থিতা ঘোষণা দেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, সাবেক গর্ভনর ও এমপি প্রয়াত অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানের ভাতিজা। তার পক্ষেও ফেস্টুন টানিয়ে সমর্থন কামনা করা হয়েছে।এছাড়া সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন-জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, জেলা জাসদের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম লিটন, জেলা সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান।জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও মহিলা আ.লীগের সভানেত্রী সামছুন্নাহার কামাল, নালিতাবাড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম উকিল, নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখযোগ্য। উল্লেখিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি থেকে এখনও কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি’র এক নং যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক আশীষ বলেন, আমরা জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এখনও চিন্তা-ভাবনা করছি না। তাই এই মুহূর্তে আমাদের দলের সম্ভাব্য প্রার্থীও নেই। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিপি অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে একজন প্রার্থী। দলীয় নেতাকর্মীরাও আমার প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. ইলিয়াছ উদ্দিন জানান, আমি নির্বাচনে জোড়ালো প্রার্থী এবং ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে দোয়া নিয়ে এসেছি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে। জেলা মহিলা আ.লীগের সভানেত্রী সামছুন্নাহার কামাল জানান, জেলায় আমি একমাত্র মহিলা প্রার্থী হিসেবে দল থেকে মনোনয়ন চাইবো। যেহেতু বর্তমানে দেশে মহিলা নেতৃত্ব জোরালো ভূমিকা রাখছে তাই আমি আশারাখি জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে অবশ্যই মনোনয়ন দিবেন। আমিও শেরপুরের জনসাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সৎভাবে কাজ করে যাব।নালিতাবাড়ি উপজেলা আ.লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম উকিল জানান, আমি দেশ স্বাধীন করে আসার পর প্রায় ১৪ বছর ছাত্র ও যুবলীগের এবং এরপর আরো ৩২ বছর মূল দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছি। একই সঙ্গে ইউপি এবং পৌরসভায় ১৭ বছর জনপ্রতিনিধিত্ব করেছি। তাই আমি দল থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা চাইবো। কারণ এখান থেকে পুরো জেলাবাসীর সেবা করার একটা বিশেষ সুযোগ রয়েছে।জেলা জাসদের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম লিটন বলেন, ইতোপূর্বে আমি শেরপুর সদর আসন থেকে জাসদের ব্যানারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। জেলা পরিষদ নির্বাচনেও আমি জাসদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মাঠে রয়েছি। এছাড়া আমার দল থেকে ভাইস চেয়ারম্যান ও সকল সদস্য পদে প্রার্থী দিবো।নকলা উপজেলা আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছি। দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেছি। তারা আমার প্রতি নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন।এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান জানান, আমরা এখন পর্যন্ত জেলা পরিষদ নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানতে পেরেছি, ইতোমধ্যে শেরপুর জেলাকে ১৫টি ওয়ার্ড এবং ৫টি সম্ভাব্য মহিলা ওয়ার্ড হিসেবে ভাগ করে খসড়া যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এরপর চূড়ান্ত নীতিমালা তৈরী হলেই হয়তো তফসিল ঘোষণা হবে।হাকিম বাবুল/এসএস/এমএস