দেশজুড়ে

শ্যামল কান্তিকে লাঞ্ছনা : দ্বিতীয় দিনে গণশুনানি চলছে

নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির দ্বিতীয় দিনের মত গণশুনানি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এ শুনানি শুরু হয়।এর আগে সোমবার স্কুলে যে ছাত্রকে নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত সেই রিফাত হাসানসহ ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।এদিকে, মঙ্গলবারও শুনানি শুরু হওয়ার আগেই সকালে লোকজন শ্যামল কান্তির বিচার দাবি করে বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে সার্কিট হাউস মিলনায়তন প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। জানা গেছে, মঙ্গলবার ঢাকা সিএমএম আদালতের চিফ ম্যাজিস্ট্রেট হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি সকাল সোয়া ১০টায় সার্কিট হাউসে এসে উপস্থিত হন। কমিটিতে আরো রয়েছেন সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম ও গোলাম নবী।মঙ্গলবার শুরুতে শ্যামল কান্তি ভক্তের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এদিন আরো অনেকের সাক্ষ্য নেয়া হবে জানা গেছে।৮ মে স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র রিফাতকে মারধর করে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। ওই সময়ে শিক্ষক আল্লাহকে নিয়ে কটূক্তি করেন বলে অভিযোগ উঠে। ওই ঘটনার জের ধরে ১৩ মে শুক্রবার বেলা ১১টায় এলাকার কয়েক হাজার ধর্মভিরু নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে স্কুলের ভেতরে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে অবরুদ্ধ করে রাখে।এ সময় উত্তেজিতরা শ্যামল কান্তি ভক্তকে গণপিটুনি দিয়ে তার শরীরের জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে শান্ত করতে ব্যর্থ হয়ে দুপুর আড়াইটায় বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে অবগত করেন। তখন সেলিম ওসমান মোবাইল ফোনে এলাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তাদের শান্ত থাকতে বলেন।তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী শান্ত হয়ে স্কুলের ভেতরে অবস্থান করে থাকেন। পরে বিকেল ৪টায় পিআর সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে উপস্থিত হন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনা জানতে চান। এ সময় স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে মারধর করাসহ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টি তুলে ধরেন। পরে সংসদ সদস্যের নির্দেশে স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে কান ধরে মুচলেকা দেন। ওই ঘটনা নিয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ অন্তবর্তীকালীন আদেশ দেয়। রুল হওয়ার পর ২৯ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসির প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ, যা দায়সারা বলে অসন্তোষ জানিয়েছিল আদালত। এরপর ৮ জুন জেলা প্রশাসক নতুন করে প্রতিবেদন দেন হাইকোর্টে। ওই ঘটনার করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে অগ্রগতি আছে জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসি ৬০ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তখন স্কুলশিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্ছনার ঘটনায় করা জিডির তদন্তে আসা ফল হলফনামা আকারে ৪ অগাস্ট আদালতে দাখিল করতে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও বন্দর থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়। গত ৭ আগস্ট পুলিশের সেই প্রতিবেদন হাইকোর্টে পড়ে শোনায় রাষ্ট্রপক্ষ। সেদিন আদালত ওই প্রতিবেদনের আলোকে একজন বিচারককে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। হাইকোর্টে আগামী ৪ নভেম্বর ওই মামলার শুনানি হবে।ঘটনার পর সেলিম ওসমান বলেন, তিনি আল্লাহকে কটূক্তি করেছেন এমন একজন নাস্তিককে শাস্তি দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি কারো কাছে ক্ষমা চাইবেন না। শাহাদাত হোসেন/এসএস/পিআর