দেশজুড়ে

হত্যা মামলায় দুই যুবকের মৃত্যুদণ্ড

গাজীপুরে ট্রেনের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে আবদুল মোমিন নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার দায়ে দুই যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আসামিদের পৃথক ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১০ বছরের সাজা ও জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ২টায় গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক একেএম এনামুল হক এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা থানার তারাটি চরপাড়া গ্রামের হাবুল মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (১৯) ও মৌলভী বাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানার বিছামনি গাংপাড় গ্রামের মুন্না মিয়া (২৫)। রায়ে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে মোমিনকে ফেলে হত্যার অভিযোগে ওই দুজনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অপর ধারায় তাদের দুজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম জানান, চলতি বছরের ২৩ মার্চ ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি গাজীপুরের পূবাইল রেলস্টেশন সংলগ্ন শিমুলতলী রেলগেইট এলাকায় পোঁছলে এক যুবকের মরদেহ পড়ে আছে বলে রেলওয়ে পুলিশকে জানান ওই স্টেশনের মাস্টার মো. তহিরুল ইসলাম। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশের এএসএই মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রেনযাত্রী আবদুল মোমিনের মরদেহ উদ্ধার করেন। এসময় তিনি খবর পান আরো দুই যুবক পার্শ্ববর্তী নলছাটা এলাকায় আহতাবস্থায় পড়ে আছে। পরে আহত যুবক হাসান মাহমুদ (২৬) ও আবু সাঈদ (১৮) গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, চলতি বছরের ২২ মার্চ রাত ৯টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর মহানগর ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশন হতে তারা দুজনসহ আবু সাঈদের মামা মোমিন ওই ট্রেনের ছাদে ওঠেন। ট্রেনটি টঙ্গী রেলস্টেশন অতিক্রম করলে ওই ট্রেনের ছাদে পূর্ব থেকে অবস্থান করা চার-পাঁচজন সন্ত্রাসী যুবক তাদের বেধড়ক মারধর ও ছুরিকাঘাত করে টাকা পয়সা ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। এক পর্যায়ে তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেনের ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেয়। এতে আবু সাঈদ ও হাসান মাহমুদ গুরুত্বর জখম হয় এবং সঙ্গে থাকা মোমিন ঘটনাস্থলে মারা যায়।এ ঘটনায় নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এটিএসআই মো. মাহবুবুল আলম ২৩ মার্চ  ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত রাসেল ও মুন্না মিয়াকে গ্রেফতার করে ২৭ মার্চ আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ভৈরব রেলওয়ে থানার এসআই মো. আদম আলী ৩১ জুলাই আসামি রাসেল মিয়া ও মুন্না মিয়াকে অভিযুক্ত করে গাজীপুর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। শুনানি শেষে বুধবার বিভিন্ন ধারায় গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত বুধবার এ রায় দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন পিপি হারিছ উদ্দিন আহমেদ আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী।আমিনুল ইসলাম/আরএআর/এমএস