দেশজুড়ে

আলোর মুখ দেখছে না মেহেরপুর বিসিক শিল্পনগরী

উদ্যোক্তাদের অনিহা ও বিসিক কর্মকর্তাদের উদাসিনতার কারণে আলোর মুখ দেখছে না মেহেরপুরের বিসিক শিল্পনগরী। ২০১১ সালে ১২টি শিল্প চালু হলেও মাঝ পথে বন্ধ হয়ে যায় ২টি শিল্প। বাকি ১০টি শিল্প কোনো রকমে ধরে রেখেছে তাদের কার্যক্রম। এ নগরীতে শিল্প গড়ে না ওঠার পিছনে কর্মকর্তারা দায়ী করছেন উদ্যোক্তাদের। আর উদ্যোক্তাদের অভিযোগ বিদ্যুৎ সমস্যা ও সুযোগ সুবিধার অভাবে অনেকেই শিল্প গড়ে তুলতে পারছেন না।ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পকে বেগমান ও বেকারদের কর্ম সংস্থানের লক্ষ্যে মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের পুলিশ লাইনের সামনে ১০ একর জমির উপর ২০০৬ সালে চালু হয় বিসিক শিল্পনগরী। ৩২টি শিল্পের বিপরীতে ৭০টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়। ২০১১ সালের মধ্যে সব প্লটই বিক্রি হয়ে যায়। শর্ত অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে উদ্যোক্তাদের উৎপাদনে যেতে হবে। কিন্তু ২০১৬ সালের মধ্যে চালু হয় মাত্র ১২টি শিল্প। দুই বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় ৪টি শিল্প। বাকি ৮টি কারখানা কোনো রকমে ধরে রাখে তাদের কার্যক্রম। পরবর্তীতে আবারও দুটি শিল্প কারখানা চালু হয়। তবে তাদের অভিযোগ যে সমস্ত সুযোগ সুবিধার কথা দিয়েছিলেন বিসিক কর্মকর্তারা তার কোনোটিই পাচ্ছেন না তারা। বিদ্যুতের পাওয়ার, ড্রেনেজ ও পানির সমস্যা রয়েছে। ফলে অনেকেই ইচ্ছা থাকলেও শিল্প গড়ে তুলতে পারছেন না। অনেক প্লট সীমানা প্রাচীরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়াও যেসব উদ্যোক্তা ১৮ মাসের মধ্যে শিল্প গড়ে তুলতে পারেননি তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিসিক কর্মকর্তরা। ফলে নতুন উদ্যোক্তরাও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উদ্যোক্তা সাফুয়ান আহম্মেদ রুপক জানান, বিসিক থেকে মাত্র ৫০ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়। যা কোনো শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অপ্রতুল। যে কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে তাদের কোনো খোঁজখবর রাখে না বিসিক কর্মকর্তরা। আর যে সমস্ত প্লটে এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি তাদের বিরেুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ফলে যাদের কারখনা চালু রয়েছে তারাও রয়েছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। মাঝে মধ্যে রাতে মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে, পাহারাদারদের মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়া হচ্ছে।মেহেরপুর বিসিক শিল্প নগরীতে কর্মরত শ্রমিক হাফিজুল জানান, বিসিক শিল্প নগরীতে কয়েকটি কারখানা চালু থাকায় বেশ কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। বাকি কারখানাগুলো চালু হলে জেলার অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।মেহেরপুর বিসিক শিল্প নগরীর উপ ব্যাবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, প্লট কিনে যারা শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা হচ্ছে।এফএ/পিআর