পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুধমুখী বাদামতলী খালে র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু শামসু বাহিনীর দুই দস্যু নিহত হয়েছে। বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এসময় বনদস্যুদের ব্যবহৃত ১১টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২৭ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। নিহত বনদস্যুরা হলো- শামসু বাহিনীর সদস্য হোসেন মোল্লা (৩০) ও আলামীন(৪৫)। নিহতদের লাশ ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র শরনখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।র্যাব ৮-এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির জানান, সুন্দরবনে র্যাবের বিশেষ অভিযান চলাকালে শরণখোলা রেঞ্জের দুধমুখী ক্যাম্প এলাকার বাদামতলী খালের পাশে বনদস্যুদের আস্তানা দেখতে পায়। এক পর্যায়ে র্যাব সদস্যরা বনদস্যু শামসু বাহিনীর আস্তানার দিকে অগ্রসর হলে তারা গুলি চালাতে শুরু করে। র্যাব সদস্যরাও এ সময়ে পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে আধাঘণ্টা ব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের এক পর্যায়ে বনদস্যুরা পিছু হটে বনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে বনের মধ্যে থেকে দেশি-বিদেশি ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২২৭ রাউন্ড গুলিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। এসময়ে র্যাব সদস্যরা বনের মধ্যে দুই বনদস্যুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে দুইটি দোনালা বন্দুক, চারটি একনালা বন্দুক, একটি পয়েন্ট ২২ বোর বিদেশি রাইফেল, দুইটি এয়ার রাইফেল ও দুইটি এলজি গান। এছাড়া ২২৭ রাউন্ড গুলি, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, চাঁদা আদায়ের রশিদ, ব্যবহৃত কাপড় এবং বিভিন্ন রশদ সামগ্রী।র্যাবের ওই কর্মকর্তা আরও জানান স্থানীয় জেলে ও বাওয়ালীরা লাশ দেখে তারা শামসু বাহিনীর সদস্য হোসেন মোল্লা(৩০) ও আলমীন(৪৫) বলে সনাক্ত করে। উদ্ধারকৃত মৃতদেহ, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শামসু ও তার দলের বিরুদ্ধে বনের জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।এর আগে গত মাসের ২৮ নভেম্বর যমুনা টিভির মধ্যস্থতায় সুন্দরবনের বনদস্যু খোকাবাবু বাহিনীর ১১ সদস্য দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে র্যাব-৮-এর মাধ্যমে অস্ত্রসহ রবিশালে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করে।শওকত আলী বাবু/এফএ/আরএআর/এমএস