কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। এই বিশ্বাস নিয়ে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে গোলাম মোস্তফা আজ একজন সফল ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৯১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর পরিবার থেকে উৎসাহ পাওয়ায় কারিগরি শিক্ষার জন্য‘নভেরা টেকনিক্যাল স্কুল’ থেকে ১৯৯২-৯৪ সাল পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদী ‘ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক টেকনিশিয়ান’কোর্স সম্পন্ন করেন।গোলাম মোস্তফা নওগাঁর মহাদেবপুর সদর উপজেলার মডেল স্কুলপাড়ার শিক্ষক জয়েন উদ্দিন ও রাশেদা বিবির বড় ছেলে। পাঁচ ছেলে-মেয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম গৃহিনী। তিনি দুই সন্তানের জনক। ছেলে মাহিন মতুর্জা ৭ম শ্রেণিতে পড়ে এবং মেয়ে জান্নাতুন মাওয়া এখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি।‘নভেরা টেকনিক্যাল স্কুল’ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করার পর ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে চাকরি না খুঁজে রেডিও, টেলিভিশন, বৈদ্যুতিক মোটর মেরামত ও সার্ভিসিং সেন্টার স্থাপন করেন নিজ এলাকায়। এরপর সফলতার সাথে সেচ পাম্প ও শিল্প কারখানার বৈদ্যুতিক মোটর মেরামত করতে থাকেন। এরমধ্যে তিনি ১৯৯৭ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ এবং ২০০০ সালে ডিগ্রি কোর্স সম্পন্ন করেন।কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপ হতে ডিজেল ইঞ্জিন অপসারণ পূর্বক বৈদ্যুতিক মোটর/সাব-মার্সিবল মোটর পাম্প স্থাপন করে পুনরায় সেচ কাজ চালু করেছেন। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশ থেকে বৈদ্যুতিক সাব-মার্সিবল মোটর পাম্প আমদানি করে কাজ করতে হয়।ওইসব বৈদ্যুতিক মোটর/সাব-মার্সিবল মোটর পাম্প মেরামতের জন্য এর আনুসাঙ্গিক যন্ত্রাংশ ও রি-উইন্ডিং ক্যাবলস অবৈধভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করতে হতো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দিনে দিনে ব্যাপক চাহিদা বাড়ায় ২০১০ সালে ইন্ডিয়া সফরে যান গোলাম মোস্তফা। সেখানে পরিদর্শনকালে তিনি বুঝতে পারেন যে, দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে শুধুমাত্র মেশিনারিজ আমদানি করে দেশের ব্যাপক চাহিদা মেটানো সম্ভব।এরপর তিনি ২০০ ডলার অগ্রিম প্রদানপূর্বক এলসি খোলার জন্য যাবতীয় পেপার্স সংগ্রহ করে যমুনা ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটিডে জমা দিয়ে মেশিন আমদানি করে কেবলস প্রস্তুত কার্যক্রম শুরু করেন। যা বর্তমানে উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশে সরবরাহ করছেন। এখন কার্যক্রম আরও উন্নত করার লক্ষ্যে উক্ত কেবলস দ্বারা বৈদ্যুতিক মোটর/সাব-মার্সিবল মোটর পাম্প প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় মেশিন আমদানি করা প্রয়োজন।তিনি ২০১৫ সালে নওগাঁ বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় ছয় হাজার স্কয়ারফিট জায়গা ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়েছেন। নাম দিয়েছেন ‘প্যারাগন অ্যাগ্রো ইঞ্জিনিয়ারিং সাব-মার্সিবল পাম্প’ প্রোঃ মোঃ গোলাম মোস্তফা। সেখানে বর্তমানে ১৬ জন কর্মচারী কাজ করছেন। সেখানে সেচ, ওয়েলডিং, ড্রিল ও কাটিং মেশিন, হ্যান্ড ড্রিল, ইলেকট্রিক মোটরসহ ১৭ ধরনের যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি রয়েছে।ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা বলেন, বৈদ্যুতিক মোটর/সাব-মারর্সিবল মোটর পাম্প মানসম্মতভাবে দেশে প্রস্তুত করা হলে ঢাকা ওয়াসা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সেচ প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ চাহিদা মেটানো ও খাদ্য নিরাপত্তসহ আমদানি বিকল্প পণ্য হিসেবে গণ্য হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষিত থাকবে। যা দেশীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হবে।তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে সাব-মার্সিবল সেচ পাম্প স্পেয়ার পারস সব খরচসহ আমদানি মূল্য ১ হাজার ৬৫০ টাকা। অথচ দেশীয় কাঁচামালের দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। যা‘বিএসটিআই’ কর্তৃক অনুমোদিত এবং বুয়েট পরীক্ষীত। সাব-মার্সিবল কৃষি সেচ পাম্প তৈরীতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ এ উদ্দেশে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে চলছেন। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন গোলাম মোস্তফা।আব্বাস আলী/আরএআর/এমএস