দেশজুড়ে

আবারো ৬ জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বিজিপি

কক্সবাজারের টেকনাফে পৌরসভা জালিয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদী থেকে আবারো ছয় বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। সোমবার বিকেলে দুইটি নৌকাসহ তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।জেলেরা হলেন, মো. হোসেন (৩০), আবদুর করিম (২৮), আক্তার ফারুক (১৬),সাদেক হোসেন (১৮), মো. ফারুক (৩৭) ও মো. সাদেক (১৭)। তাদের সকলের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ায়। স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে নৌকা নিয়ে আট জেলে নাফ নদে মাছ শিকার করছিলেন। এক পর্যায়ে বিজিপির টহল দল নৌকাসহ তাদের নিয়ে যায়। এসময় নৌকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরিয়ে স্থানীয় এক জেলের সহযোগিতায় দুই জেলে কূলে ফিরে আসেন। তারা হলেন, আবদুল আমিন (২০) ও নুর মোহাম্মদ (২৫)। তাদের বাড়িও ওই এলাকায়। পালিয়ে আসা জেলে আব্দুল আমিন ও নুর মোহাম্মদ জানান, সকালে নাফ নদীতে দুইটি নৌকা করে আটজন জেলে মাছ ধরতে যান। বিকেলে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের দিকে অস্ত্র উঁচিয়ে ধাওয়া করে ধরে ফেলে। পরে তাদের মিয়ানমারে নিয়ে যাবার সময় নৌকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন তারা। ডুব দিয়ে ও সাঁতরিয়ে পালিয়ে আসার সময় নাফ নদে মাছ শিকাররত অবস্থায় অপর জেলে আব্দুল আজিজ তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। এখনো ওই ছয় জেলে মিয়ানমার বিজিপির কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবার।  নৌকার মালিক মো. ইব্রাহীম জানান, নৌকা নিয়ে চার জেলে বাংলাদেশ জল সীমানায় মাছ শিকারের যায়। এ সময় বিজিপির সদস্যরা নৌকাসহ চার জেলেকে ধরে নিয়ে যায়। এর মধ্যে দুই জেলে পালিয়ে কুলে ফিরে আসেন। টেকনাফ-২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল ছিদ্দিকী জানান, ধরে নিয়ে যাবার বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিজিপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত অপহৃত জেলে পরিবারের পক্ষে থেকে কিছুই অবহিত করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, নাফ নদীতে বিঙ্গিজাল নিয়ে মাছ শিকার করতে নিষেধ করা সত্বেও জেলেরা মিয়ানারের জলসীমানায় গিয়ে মাছ শিকার করছে। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। উলে­খ্য, এর আগেও নাফ নদী থেকে আরও ১৪ জেলেকে অস্ত্রমুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমারের বিজিপি। তাদের এখনো ফেরত দেয়নি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/পিআর